অমুসলিমের জন্য দোয়া করা কি জায়েজ?

Share this article
অমুসলিমের জন্য দোয়া করা নিয়ে ইসলামের বক্তব্য কি…

প্রথমত, অমুসলিমদের জন্য হেদায়েতের দোয়া করা জায়েজ, বরং মুস্তাহাব। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা) দাওস গোত্র ও আবু হুরাইরা (রা) এর মায়ের হেদায়েতের জন্য দোয়া করেছেন।  অমুসলিমদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, ইস্তিগফার বা রহমতের দোয়া করা হারাম।

সূরা তাওবার ১১৩ নং আয়াতে আল্লাহ এ কাজটি সম্পূর্ণভাবে হারাম করে দিয়েছেন। ইহুদিরা রাসূলুল্লাহর সামনে ইচ্ছে করে হাঁচি দিতো যেনো হাচির উত্তরে রাসুলুল্লাহ তাদেরকে ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন) এই দোয়া করেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ তাদের জন্যে ইয়াহদিকুমুল্লাহ (আল্লাহ তোমাদেরকে হেদায়েত দান করুন) এই দোয়া করতেন।

দ্বিতীয়ত, অমুসলিমের পার্থিব কোনো উপকারের জন্য দোয়া করা যেমন রোগমুক্তির জন্য, বিপদ দূর হওয়ার জন্য জায়েজ যদি সেই অমুসলিম ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত না থাকে বা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত না থাকে। রাসুলূল্লাহ (সা) সাধারণ মুশরিকদের অনুরোধে তাদের জন্য বৃষ্টির দোয়া করেছিলেন।

মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাতে ইব্রাহিম নাখঈ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহর কাছে এক ইহুদী এসে বলল- আমার জন্য দোয়া কর, আল্লাহর রাসুল দোয়া করলেন- আল্লাহ তোমার সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিক, তোমাকে সুস্বাস্থ্য দিক, আয়ু বৃদ্ধি করে দিক। তেমনি কোনো উপকারের বিনিময়ে অমুসলিমের জন্য পার্থিব কল্যাণের দোয়া করা যায়, যেমন এক ইহুদী রাসুল্লাহর জন্য দুধ দহন করলে তিনি এর বিনিময়ে তার জন্যে দোয়া করে বলেছিলেন-

হে আল্লাহ তাঁকে সুশ্রী করে দিন। সেই ইহুদীর চুল মৃত্যু পর্যন্ত কালো ছিল।

وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَلِقَائِهِ أُولَئِكَ يَئِسُوا مِنْ رَحْمَتِي وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ [العنكبوت: 23]

সূরা মুমতাহিনার ৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন- যারা তোমাদের সাথে ধর্মের ব্যাপারে যুদ্ধ করেনা আর তোমাদেরকে ঘর থেকে বিতাড়িত করেনা তাদের সাথে সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ নিষেধ করেন না। এই আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় সাধারণ অমুসলিমদের জন্যে রোগমুক্তির দোয়া করা জায়েজ, বরং তার জন্য করা দোয়টি তাঁকে শুনিয়ে করা উত্তম যাতে করে সে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

অসুস্থ অমুসলিমটি প্রতিবেশী বা পরিচিত হলে তাঁকে দেখতে যাওয়াও উচিত, রাসুলুল্লাহ তার ইহুদী খাদেম বালককে মৃত্যু শয্যায় দেখতে গিয়েছিলেন, নিজের চাচা আবু তালেবকে দেখতে গিয়েছিলেন।

তেমনিভাবে অমুসলিমের রোগমুক্তির জন্য কোরআনী তদবির করা বা রুকিয়াহ করাও জায়েজ। যেমন একজন অমুসলিমকে ক্যাপসুল বা ঔষধ দেয়া যেমন জায়েজ। বুখারিতে এসেছে আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত একদল সাহাবা একবার আরবের এক বেদুইন গোত্রের কাছে খাবার চাইলেন।

সেই গোত্র খাবার দিতে রাজী হলো না, এমতাবস্থায় গোত্রের সর্দারকে বিচ্ছু দংশন করলে তারা কবিরাজের খোঁজ করে না পেলে সাহাবীরা সূরা ফাতিহার মাধ্যমে তার রুকইয়া করে। সাথে সাথে সর্দার সুস্থ হয়ে গেলে তাদেরকে অনেক হাদিয়া দেয়। পরে এই ঘটনা রাসূলুল্লাহর কাছে এসে বর্ণনা করলে তিনি হেসে বলেন- আমাকেও কিছু দিও। এ থেকে বুঝা যায় অমুসলিমের সুস্থতার জন্য ইসলামী চিকিৎসা করা জায়েজ।

এ সকল ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে সেই অমুসলিম যেন ইসলামের সরাসরি শত্রু না হয়, বা এমন না হয় যার সুস্থতার কারণে ইসলাম বা মুসলিমের ক্ষতি হবে। সাধারণ অমুসলিমের জন্য তাকে ইসলামে আকৃষ্ট করার নিয়তে দোয়া করা বা দেখতে যাওয়া বা চিকিৎসা করা জায়েজ।

সুস্থ সমাজ গঠনের মূলমন্ত্র জানতে পড়ুন এই লেখাটি

লেখক সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন তাঁর ফেসবুক আইডি

Share this article
AllEscort