আমার একটি স্বপ্ন আছে! I Have a Dream1

Share this article
আমার একটি স্বপ্ন আছে! (I Have a dream!) কথাটির প্রভাব কিন্তু অতলস্পর্শী।

নিষ্পাপ বালক যখন শিশুসুলভ স্বপ্নে বিভোর হয়ে খামার, ঘোড়া ও আস্তাবলের মালিক হওয়ার স্বপ্নটকু পরীক্ষার খাতায় লিখে ফেলে, শিক্ষক তার নাম্বার কেটে নেয়। আর এভাবেই তাকে বঞ্চিত করা হয় স্বপ্নের অনাবিল আনন্দ থেকে…

স্বপ্ন তুমি কিভাবে দেখবে? অথচ যে ক্যানভাসে তোমার স্বপ্নগুলো আঁকতে চাও সেটাই তোমার অধিকারে নেই, খাতাটাই হয়তো স্কুল থেকে দেয়া।

শিশুটিকে আবারো পরীক্ষা দিতে বলা হলে; সে খেদোক্তি করে বলবেঃ

আপনার নাম্বার আপনার কাছে থাক, আমি আমার স্বপ্ন হাতছাড়া করতে রাজি নই!

এটাই আশ্চর্য্যের, যখন বিরূপ পরিস্থিতি জয় করে আকাশচুম্বী স্বপ্ন জিইয়ে থাকে, আর স্বপ্নচারী মানুষটা সুদীর্ঘ পথের শেষে নিজের পছন্দের লক্ষ্যে পৌঁছতে নাছোড়বান্দা হয়!

এটাই সেই চ্যালেঞ্জ যা তোমাকে স্বপ্নচোরদের থেকে গা বাঁচিয়ে নিজের পথে পা বাড়াতে বাধ্য করবে।

যখন মার্টিন লুথার কিং তার সেই প্রসিদ্ধ কথাটি বলেছিলেনঃ “আমার একটি স্বপ্ন আছে”, তিনি তখন একাধিক ভাষা জানতেন, কিন্তু কথাটি তিনি বলেছিলেন মানুষের ভাষায়।

ঘুমের স্বপ্ন ব্যক্তির কল্পনার ছটা, এর পিছনে সে পরিশ্রম করতে করতে এক সময় তা সাফল্য হয়ে ধরা দেয়। সে তখন শুন্যে ভাসে, আবিষ্কার করে, উদ্ভাবন করে। কন্টকাকীর্ণ পথ মাড়িয়ে অসম্ভবকে হাতের মুঠোয় পুরে নেয়।

স্বপ্ন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কিছু:

যখন অন্তরের খুব বাড় বেড়ে যায়

এর লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে দেহ ক্লান্ত হয়ে যায়

লক্ষ্য হলো সাময়িক স্বপ্ন যেখানে পৌঁছতে পারলে তা উবে যায়; কিন্তু প্রকৃত স্বপ্ন হলো বহতা প্রণয় যা লেপ্টে থাকে হৃদস্পন্দনের সাথে, আত্মার অনুরণনে, উপলব্ধির বোঝাপড়ায় আর কল্পনার অবগাহনে।

স্বপ্ন যখন বাস্তব হয়ে উঠে তখন তা যেন সুরভী ছড়ায়, হাতে তুলে নিলেই তা মরে যাবে। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হলো অপেক্ষার ক্ষণগুলো, প্রতীক্ষার মুহূর্তগুলো যেন অদ্ভুত এক সক্রিয়তা মিশ্রিত জীবনের সর্বোচ্চ চূড়া।

স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়, কখনো তা আমাদের অশ্রুতে ধরা পড়ে, আমাদের নির্ঘুম রাতগুলো হয়ে উঠে এর ইন্ধন, আমাদের ঘুম-জাগরণ সবকিছুর উপর তা চড়াও হয়।

মার্টি লুথার কিং বলতেনঃ

“আগামীকাল পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে জানলেও আমি একটি আপেল গাছ লাগাবো”।

এটি মূলত সুপ্ত মানবিক প্রজ্ঞার সুন্দরতম চয়ন।

নবুয়তের প্রদীপ এর চেয়ে হৃদয়গ্রাহী যখন রাসূল (সঃ) (বুখারী ও আহমদে বর্ণীত) সহীহে হাদীসে বলেছেনঃ “যদি কেয়ামত আরম্ভ হয়ে যায় আর তোমাদের কারো হাতে একটি রোপণযোগ্য চারাগাছ থাকে, তাহলে অবশ্যই তা বপে দিও”।

নবুয়তের কর্ণধার খেজুর বিথী সম্পর্কে বলেছেন –

“এটি নরম কাদামাটিতেও অনড়, ঘরে ঘরে খাদ্যের যোগানদাতা”।

গাছটি ইমানদার ব্যক্তি সদৃশ। ধৈর্য্য, প্রতীক্ষা, দৃঢ়তা ও তৃষ্ণা সহ্য করার প্রতীক!

যদি বলো এই তো জলাধার, শুধাই- ‘তৃষ্ণা মেটাবো’

কিন্তু কেবল বন্য হৃদয়ই পিপাসা সহ্য করতে জানে!

রাসূল (সা) আগামীকালের কথা বলেন নি, বলেছেনঃ এখনি… তুমি শেষ হয়ে যাওয়ার আগে যদি চারা রোপণ করতে কয়েকটি সেকেন্ড হাতে পাও তবে তাই করো!

সুন্দর স্বপ্নগুলো মরে না, কারণ এটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয় না, বরং অন্যের জন্য সেখানে বিশাল অংশ থাকে, আমিত্বের ঘেরাটোপে সে বন্দি নয়।

সত্য প্রতিশ্রুতি “সওয়াব” হলো আকাঙ্ক্ষার খোরাক, হোক তা পার্থিব কোনো কাজে যদিও তা ফলপ্রসূ না হোক। নিরেট কাজটুকুই যে মানববংশকে ধ্বংস ও বিলীন হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আর এটাই টিকে থাকার “পরোক্ষ চাবিকাঠি”।

পারলৌকিক সওয়াব মানুষের কাছে গুপ্ত থাকার নেপথ্যে এটিই মূল রহস্য, কর্মের গুরুত্বে বিশ্বাসের পাশাপাশি এটা কর্মকে টিকিয়ে রাখার এক ভিন্ন রক্ষাকবচ।

স্বপ্ন হলো ক্ষণের সংকীর্ণতা থেকে ভবিষ্যতের উদারতার পথে, হীনমন্যতা থেকে আশাসঞ্চার ও আত্মবিশ্বাসের পথে, আশঙ্কা থেকে আশাবাদ ও প্রাপ্তির পথে পরিভ্রমণের নাম।

রিক্তহস্ত শিশু টসটসে আপেলে কামড় বসানোর স্বপ্ন দেখে, দেখে তুলতুলে বিছানায় ঘুমানোর স্বপ্ন, কিংবা স্বপ্নাতুর হয় বর্ণীল পুতুল নিয়ে সে খেলবে।

ভীত ব্যক্তি নিরাপত্তার স্বপ্ন দেখে, অন্য কোনো কিছুতে তার মন যায় না। ভয় ও আশঙ্কা হলো স্বপ্নের শত্রু, যখন ভয় গ্রাস করে তখন মানুষ বাধা-বিপত্তির আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায়।

একজন মানুষ কখনো অদৃশ্য কারাকুঠুরিতে বসবাস করে, খাঁচার অস্তিত্ব সে টের পায় না, সে যে বন্দীদশায় আছে তাও অনুভব করতে পারেনা।

সে অদৃশ্য কারাগারে বসবাস করে, খাঁচার অস্তিত্ব সে অনুভব করতে পারে না, সে মনে করে সে মুক্ত-স্বাধীন, প্রকৃতপক্ষে সে একজন লৌহ কপাট শৃংখলে বন্দি দাস ছাড়া কিছুই না!

তোমার মনের কথাকে খেয়াল করে দেখো… প্রতিদিন কতবার নিজেকে প্রবোধ দাওঃ হ্যাঁ, আমি পারবো কিন্তু আমি ভয় পাই!

পরিবার হলো একটি অনিন্দ্যসুন্দর স্বপ্ন, মানববংশ বিস্তারের অভিপ্রায়ে তা পরিতৃপ্তির সোপান, অন্যের মাঝে আপন স্বত্বাকে আবিষ্কারের স্বপ্ন, ভিন্ন ভিন্ন দেহ কিন্তু আত্মা ও অস্তিত্বের ঐকতান।

বিচক্ষণতা হলো অন্তরের আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্যের চূড়া, মহান স্বপ্নের দিকে পা বাড়ানোর পথে প্রথম দুঃসাহসিক অভিযান।

লালিত আশার ভারে আমার অন্তরকে জীর্ণ করেছি

দিগন্তহীন আশা না থাকলে জীবন হতো দুর্বিসহ

এমন মানুষ আছে যারা জীবনকে অবরুদ্ধ করে ফেলে, এর চেয়ে শোচনীয় হলো যারা স্বপ্নকে অবরুদ্ধ করে। তারা চায় না মানুষ স্বপ্ন দেখুক, অথবা প্রাত্যহিক জীবনের ঝঞ্জাট পেরিয়ে কল্পবিলাসকে ছুঁড়ে দিক অসীম দিগন্তে।

সৌভাগ্যই স্বপ্ন।

সফলতাই স্বপ্ন।

স্বাধীনতাই স্বপ্ন, এমনকি খাঁচার জানালায় ঠোকর মারা পাখিটাও মুক্ত আকাশে অপলক চেয়ে থাকে। কিংবা যে বিড়ালটা মিউ মিউ করছে আর বন্দিত্বের অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি চেয়ে বারবার দরজায় মুখ ঘষছে, তার কাছেও।

ইনসাফ আমজনতার স্বপ্ন, যে ইনসাফের তাপে কৃত্রিম ভেদাভেদ গলে পড়ে, পৃথিবীর শাসনের সামনে কিংবা পরকালের ক্ষমতার সামনে সকলের সমান সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়…

সারিবদ্ধ কবরের মাঝে দাঁড়িয়ে আমি অন্তরকে বললাম…

তুমি কি ভাবো এই গর্তগুলোয় শান্তি ও আরাম আছে?

সে আমায় ইশারা করল, দেখি কবর ফলক বিবর্ণ হয়ে গেছে

সে বললঃ হে প্রশ্নকর্তা আমি জানিনা সেখানে কি চলমান,

কিন্তু দেখো এখানে সকল প্রাণ বিলীন হয়েছে সমানে সমান,

দাসের ধ্বংসস্তুপে মিশে গেছে রাজদন্ডের প্রতাপশালী মালিক,

প্রেমিকের অস্থিমজ্জায় একাকার হয়েছে দিনমজুরের প্রাণ।

তোমার জীবনে তুমি নতুন কিছু যোগ করতে চাওয়ার অনুভূতি, তোমার প্রতীক্ষিত স্বপ্নের ব্যাপারে তুমি নিঃস্বার্থ ও আন্তরিক হওয়া… এটুকুই যথেষ্ট!

হয়তো তুমি একজন যুগশ্রেষ্ঠ কিংবা উদ্ভাবকের জন্য আদর্শ হবে, অথবা এমন এক দিশারী হবে যার মাধ্যমে অন্যদের জন্য উন্মোচিত হবে নবদিগন্ত, অথবা হাতেগোনা কিছু বিরল প্রতিভাবানদের মিছিলে হবে একজন দৃষ্টান্ত!

এক যুবক আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্বপ্ন কি জানতে চাইল।

আমি বলেছিঃ আমার সবচেয়ে অমূল্য স্বপ্ন হলো, আমি মারা যাবো কিন্তু আমার স্বপ্নগুলো জীবনের বাঁকে বাঁকে স্পন্দিত হতে থাকবে, নানান ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে যাবে। আর হতাশ, নিরাশ ও হাল ছেড়ে দেয়া মানুষদের হৃদয়ের মণিকোঠায় আশার আলো ফুঁকে দিবে।

যখন তোমার স্বপ্নের পরিচর্যায় ধৈর্য্যশীল ও আন্তরিক হতে পারবে তখন আর ভয়ের কিছুই নেই; কেননা তখনই তোমার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে গোটা পৃথিবী উঠেপড়ে লাগবে, যেমনটা (পাওলো কোয়েলহো) একবার বলেছিলেন।

স্বপ্ন হতে হবে গভীর প্রণয়ের মতো, যা রক্ত-মাংসে মথিত হয়ে যায়, প্রবেশ করে অস্থিমজ্জায়, চোখের মণিতে বসবাস করে, ভাষাকে প্রশান্ত করে, শ্বাসের সাথে প্রবাহিত হয় প্রশ্বাসের সাথে নবায়িত হবে বলে!

যুবকরা তাদের স্বপ্ন আঁকে গাড়িতে কিংবা ক্যানভাসে, যুবতীরা তাদের শয়নকক্ষে কিংবা হাতব্যাগে স্বপ্নের চিত্রায়ন করে, কিন্তু এত সব কিছুর পূর্বে স্বপ্ন অঙ্কিত হতে হয় হৃদয়ের গহীন মহলে, অস্তিত্বের গভীর স্রোতে, আর আত্মার মানসপটে।

অন্যথায় অচিরেই গাফলতির থলে তুমি অজুহাত দিয়ে ভরাতে চাইবে, ব্যর্থতার দোহাই দিয়ে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করার প্রয়াস হারাবে।

“যা তোমার উপকার করে তাতে আগ্রহী হও”- এটি ইতিবাচক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোগী ও করিৎকর্মা হওয়ার চেতনা সম্বলিত কার্যকরি আদান-প্রদানের বার্তাবাহী এক নবুয়তী আহ্বান।

“আল্লাহর উপর ভরসা করো”- যখন তুমি স্বপ্নকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করবে তা হয়ে উঠবে মহাকালের ও চিরস্থায়ী; যাতে করে একজনের স্বপ্ন হয়ে উঠবে একটি জাতির স্বপ্ন, বিচ্ছিন্ন পার্থিব স্বপ্ন থেকে হয়ে উঠবে অন্তহীন দিগন্তের স্বপ্ন যেখানে অপেক্ষা করছে খোদায়ী ন্যায়, ইনসাফ, অনুগ্রহ ও পরকাল। এমন অনাবিল সুখরাজ্য যা না কোনো চোখ কখনো দেখেছে, না কোনো শ্রবণেন্দ্রিয় তা কখনো শুনেছে, আর না কোনো হৃদয়ে এর কল্পনা কখনো রেখাপাত হয়েছে।

“হতাশ হইয়ো না”- ঈমানের অঙ্গারে দীপ্ত আত্মা কি করে হতাশ হতে পারে।

“যদি তোমাকে বিপদ ছুঁয়ে যায়, তাহলে বলো নাঃ ইশ! যদি আমি এমন করতাম বা তেমন করতাম, বরং বলোঃ এটা আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির, তিনি যা চান তাই করেন”। (সহীহ মুসলিমে বর্নীত হাদিস)।

ঈমান কোনো অন্ধ জোরজবস্তির নাম নয়, বিপুল মানবশক্তিকে অকপটে মেনে নেয়া কিংবা একেবারে ছুঁড়ে ফেলার নামও নয়, এটি অপস্রিয়মাণ ধ্বংসাবশেষ নিয়ে কান্নার নাম নয়, আবার পরিস্থিতির পট-পরিবর্তনে সন্ত্রস্ত হওয়ার নামও নয়। এ হলো আল্লাহ্‌ তোমাকে যেখানে এনেছেন সেখানেই কল্যাণ নিহিত আছে বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করার বিষয়, তুমি প্রতিদিন নতুন নতুন স্বপ্ন বুনবে, আশার নতুন আলো দেখবে, সাফল্যের নতুন দিগন্তে পা রাখবে।

যতক্ষণ না তুমি স্বপ্ন দেখার সামর্থ্য লাভ করবে ততক্ষণ তুমি কিছুই করতে পারবে না।

স্বপ্নকে পোষ্য করা থেকে সাবধান থেকো, ঘটনার মোড়ে মোড়ে কিংবা পরিস্থিতির বক্রতায় যেন তা সুবিধা মতো রঙ না পাল্টায়…

অবাধ স্বপ্ন দেখো… কল্পনাকে মুক্ত করে দাও… তোমার কল্পিত রাজ্য গড়ে তোলো যতক্ষণ না তোমার প্রবল বিশ্বাসের জোরে তা একদিন দৃশ্যমান সত্যে পরিণত হয়…

“স্বপ্ন-ফলক” একটি সাবলীল চিন্তা, এর উপর তোমার লক্ষ্যগুলো লিপিবদ্ধ করো, এরপর ফলকটি এমন উন্মুক্ত স্থানে রাখো যেখানে প্রতিদিন তোমার দৃষ্টি পড়ে। হতে পারে তা নিকট ভবিষ্যতের লক্ষ্য কিংবা সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যের তালিকায় ভরপুর।

এর মাঝে মাঝে লিখতে পারো কোরআনের একটি পবিত্র আয়াত, কিংবা একটি হাদিসে রাসূল, অথবা তোমার বিশ্বাস জাগায় এমন কোনো প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী।

শীঘ্রই যখন আমাদের মানুষগুলোর সমসংখ্যক গোলাপস্নাত কিছু স্বপ্ন যোগাড় হয়ে যাবে আমরা বিজয়ী হবো, অথবা জীবনের নাটাই ধরে থাকা সুন্দর স্বপ্নের অধিকারী মানুষগুলো যখন সফল হবে।

আমরা বিজয়ী হবো যখন ধর্মপ্রাণ বক্তা স্বপ্নের ডালিতে পরিপূর্ণ হবেন, স্বপ্নের দারোগা হবেন না।

মনোজগৎ নিয়ে পড়ুন- মনস্তাত্বিক চিকিৎসা ঘরে বাইরে

এ সংক্রান্ত বই কিনুন ইকরাহাউস বুকশপ থেকে

Share this article

Leave a Reply

Your email address will not be published.