এক মজলিসে কোরআন খতম দেয়া

Share this article
এক মজলিসে কোরআন খতম দেয়া নিয়ে নানান জল্পনা কল্পনা আছে

হিফয সম্পন্ন করা কেউ ফযর থেকে যুহর পর্যন্ত অথবা এশা থেকে ফযর পর্যন্ত সম্পূর্ণ কোরআন শোনানোর ভিডিও বা পোস্ট সামনে আসলেই কিছু ভাইকে বলতে দেখা যায় এটা নাকি কোরআনের আদবের খেলাফ। কিন্তু অল্প সময়ে এক বৈঠকে বা এক রাকাআতে কোরআন পাঠ করা কুরআনের মুজিজার অংশ এটাও অনেকের বোধহয় উপলব্ধিতে আসতে চায়না। যা অন্যকোনো গ্রন্থের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

অনেক ভাইকে বলতে দেখা যায় এতে কুরআনের অবমাননা করা হচ্ছে, কুরআন এক বৈঠকে পাঠ করে ফেলার বিষয় না। কিন্তু অনেক সালাফদের ব্যাপারে এক রাকাতে পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করে ফেলার আমল দেখা যায় বিশেষ করে হযরত উসমান (রাঃ) এর বেলায়। এর কিছু দলিল নিম্নে দেয়া হলো:

মোহাম্মদ বিন সিরিন থেকে, তাবারানি বলেছেন: ওসমানকে (রাঃ) যখন দুর্বৃত্তরা হত্যা করার জন্যে ঘোরাঘুরি করছিল তখন তাঁর স্ত্রী বলেন, ‘তোমরা তাঁকে হত্যা কর আর না কর তিনি পূর্ণ রাত্রি এক রাকাতেই কাটাবেন, এবং সেই এক রাকাতেই পূর্ণ কোরআনকে একত্রিত করবেন।’ (মুজামুল কাবীর গ্রন্থ, পৃষ্ঠা: ১৩০)

আব্দুর রহমান বিন ওসমান বলেছেন: ‘সেই রাতে আমি মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে নামাজ পড়তে দাঁড়ালাম এবং আমার ইচ্ছা ছিল আর কেউ যেন আমাকে পিছনে ফেলতে না পারে। হঠাৎ দেখি আমার সামনেই এক ব্যক্তি আমাকে ইশারা করছে তাঁর ইক্তিদায় শামিল হতে, আমি ভ্রূক্ষেপ করলাম না প্রথমে। তিনি আবারো আমাকে ইশারা করলেন, তখন খেয়াল করে দেখি ইনি তো উসমান বিন আফফান! আমি তাঁর পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম, অতঃপর তিনি এক রাকাতে পূর্ণ কোরআন তিলাওয়াত করলেন।’ (বায়হাকী, হাদিস: ৪৭৮২)

ইবনুল মুবারক (রাহি.) সুলেমান বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, ‘ওসমান ইবনে আফফান রাতের খাবারের পরে এক রাকাতে পুরো কোরআন পাঠ করলেন, এর আগে এবং পরে অন্য আর কোন নফল সালাত পড়লেন না।’ (আল-যুহদ, হাদিস ১২৭৫)ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রাহি.) বলেছেন:‘আর এক রাকাতে কুরআন তিলাওয়াত করা উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত আছে।’ (মিনহাজ আল-সুন্নাহ আল-নববী, ৪/৩২)

ইবনে কাসির (রাহি.) বলেন: ‘এটি বিভিন্নভাবেই বর্ণিত আছে যে, উসমান (রাঃ) হজের দিনগুলোতে হাজরে আসওয়াদের নিকট এক রাকাতে পূর্ণ কোরআন খতম করতেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭/২১৪)

ইবনে হাজার আসকলানী এটিকে সহীহ বর্ণনা বলে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন।(ফাতহুর বারী গ্রন্থে ২/৪৮২)

শাইখ আলবানী বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে নাসর সহ অন্যান্যদের গ্রন্থে সায়েব ইবনে ইয়াযিদ থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘উসমান রাতে এক রাকাতে কোরআন তেলাওয়াত করেছিলেন।’ (সালাত আল-তারাবীহ- ৯৮)

এসব বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা তাঁকে উক্ত সময়ে বারাকাহ দান করেছেন, যাতে তিনি পুরো কোরআন তেলাওয়াত করতে সক্ষম হন।

সালাফদের কেউ কেউ একই সময়ে কুরআনকে বিভিন্নভাবে খতম দিতেন। বিষয়টা বেশ অবাক করা। যেমন—এক ধরনের খতমে তাঁরা কুরআন খুব দ্রুত পড়তেন, যেন তাঁরা বেশি সাওয়াব পেতে পারেন। কারণ এক অক্ষরের বিনিময়ে দশটি সাওয়াব পাওয়া যাবে। এই ধরনের খতমে তাঁরা তিন দিনের কমে কুরআন খতম করতেন।

আবার তাঁরা অন্যভাবে কুরআন খতম দিতেন, সে খতমে তাঁরা আস্তে আস্তে কুরআন তিলাওয়াত করতেন যাতে কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা এবং পর্যালোচনা করা যায়। এভাবে খতম দিতে তাঁদের কয়েক সপ্তাহ, মাস, এমনকি বছরও লেগে যেত। তাঁদের কেউ কেউ তৃতীয় আরেক ধরনের কুরআন খতম দিতেন। সে পদ্ধতিতে তাঁরা কুরআন পড়ে পড়ে ছাত্রদের শিক্ষা দিতেন। এই ধরনের খতমে প্রথম দুই খতম থেকে আরও বেশি সময় লাগত।

আমরা কোনো ফিকহি বিতর্কে যেতে চাচ্ছি না, কারণ দুঃখজনকভাবে আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যে—উম্মতের অনেক মুসলিম আছে যারা তাদের সারা জীবনেও কুরআন একবার শেষ করতে পারে না। আজকে উম্মতের এগিয়ে থাকা লোক তারা, যারা এক রামাদানের পর আরেক রামাদান আসার আগে কুরআনের উপর ধুলা জমতে দেয়নি—এমনিভাবে কুরআনের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী প্রতি দুই দিনে একবার কুরআন খতম দিতেন, অর্থাৎ প্রতিদিন তিনি কুরআনের অর্ধেক তিলাওয়াত করতেন। রামাদান মাসে নয়—এটা ছিল তাঁদের সাধারণ দিনের আমল।

৩ দিনের কম সময়ে খতম করা প্রসঙ্গে অপছন্দ করা আর অপছন্দ না করা নিয়ে সালাফদের দুদিকেই মতামত দেখা যায়। সালাফদের কেউ কেউ একই সময়ে কুরআনকে বিভিন্নভাবে খতম দিতেন। বিষয়টা বেশ অবাক করা। যেমন—এক ধরনের খতমে তাঁরা কুরআন খুব দ্রুত পড়তেন, যেন তাঁরা বেশি সাওয়াব পেতে পারেন। কারণ এক অক্ষরের বিনিময়ে দশটি সাওয়াব পাওয়া যাবে। এই ধরনের খতমে তাঁরা তিন দিনের কমে কুরআন খতম করতেন।

আবার তাঁরা অন্যভাবে কুরআন খতম দিতেন, সে খতমে তাঁরা আস্তে আস্তে কুরআন তিলাওয়াত করতেন যাতে কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা এবং পর্যালোচনা করা যায়। এভাবে খতম দিতে তাঁদের কয়েক সপ্তাহ, মাস, এমনকি বছরও লেগে যেত। তাঁদের কেউ কেউ তৃতীয় আরেক ধরনের কুরআন খতম দিতেন। সে পদ্ধতিতে তাঁরা কুরআন পড়ে পড়ে ছাত্রদের শিক্ষা দিতেন। এই ধরনের খতমে প্রথম দুই খতম থেকে আরও বেশি সময় লাগত।

আমরা কোনো ফিকহি বিতর্কে যেতে চাচ্ছি না, কারণ দুঃখজনকভাবে আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যে—উম্মতের অনেক মুসলিম আছে যারা তাদের সারা জীবনেও কুরআন একবার শেষ করতে পারে না। আজকে উম্মতের এগিয়ে থাকা লোক তারা, যারা এক রামাদানের পর আরেক রামাদান আসার আগে কুরআনের উপর ধুলা জমতে দেয়নি—এমনিভাবে কুরআনের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

-শায়খ আহমদ মুসা জিবরীল (হাফি.)

আরো পড়ুন- কোরআন থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা আবিষ্কার

Share this article

Leave a Reply

Your email address will not be published.