কে নমনীয়? বিজ্ঞান নাকি ধর্ম?

Share this article
কে নমনীয় ও সহনীয়? বিজ্ঞান নাকি অহী। বিষয়টা একটু ভিন্নভাবে দেখা যাক

স্রষ্টা প্রকৃতিতে রহস্য সৃষ্টি করেন। বিজ্ঞান সেই রহস্যভেদ করার চেষ্টা করে। আবারো বলছি, বিজ্ঞান রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করে। আর অহী সেই রহস্যের পিছনে স্রষ্টার কর্মপন্থাকে ব্যাখ্যা করে। আবারো বলছি, রহস্যের পিছনের উদ্দেশ্যকে উদ্ঘাটন করে।

একটা উদাহরণ দিলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। স্রষ্টা প্রকৃতিতে ভূমিকম্প সৃষ্টি করেন। বিজ্ঞান সেই ভূমিকম্পের রহস্য উদ্ঘাটন করে। কিভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় বা কিসের প্রতিক্রিয়ায় এর সৃষ্টি তা খুঁজে বের করে। আর ইসলাম বা অহী ব্যাখ্যা অন্বেষণ করে কেন স্রষ্টা এই ভূমিকম্প দিলেন সেই কারণটা।

সুতরাং অহী স্রষ্টার সাইড থেকে বিশ্লেষন করে, আর বিজ্ঞান সৃষ্টির সাইড থেকে বিশ্লেষণ করে। আর এই বিন্দুতে এসে বিজ্ঞান ও অহীর ক্ল্যাশ। ঠিক এ কারণেই আমরা বলি- বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে বিচার করা যাবেনা। বরং কোরআন দিয়ে বিজ্ঞানকে যাচাই করতে হবে।

আচ্ছা, আরেকটু বুঝিয়ে বলি। কিছু বিষয় আছে যেগুলোর ব্যাপারে বিজ্ঞান ও কোরআন বাহ্যত একমত হয়েছে। যেমন, বিজ্ঞান বলছে গ্রহ-নক্ষত্র সবই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরছে। কোরআনও বলছে ঘুরছে, কিন্তু বিজ্ঞানের বাতলে দেয়া কক্ষপথে কিনা, নাকি অন্য কোনো আদি কেন্দ্রকে ঘিরে ঘুরছে তা অহীর আলোকে নিশ্চিত করে বলা যাবেনা। কারণ অহী এখানে দ্বৈত অর্থের অবকাশ রেখেছে, তবে অহীর সম্মিলিত সমীকরণ এর ঘুর্ণন কেন্দ্র স্রষ্টার দিকেই সমর্পণ করবে। যেহেতু অহী স্রষ্টার সাইড থেকেই ব্যাখ্যা করে। আর এদিকে বিজ্ঞান স্রষ্টার দিকে কেন্দ্রকে ধারণা করতে নারাজ। কারণ সে সৃষ্টির সাইড থেকে চিন্তা করবে।

একইভাবে পৃথিবীর আকৃতি, অভিকর্ষ, বায়োলজি সহ নিশ্চিত প্রমাণিত বিষয়গুলো নিয়ে যদিও আপাত দৃষ্টিতে বিজ্ঞান ও অহী একীভূত মনে হয়, তবে সূক্ষ্ম এই ব্যবধান অবশ্যাম্ভী।

এই দুই মেরুকরণের কারণে ঠিক মধ্যবিন্দুতে একটা ডার্ক পয়েন্ট তৈরি হয়েছে। যেখানে উভয়ের প্রত্যাখ্যাত বা অবিশ্বাসযোগ্য বিষয়ের অবস্থান। যেমন, অহী জ্বীন-ফেরেশতা-জান্নাত ইত্যাদিতে স্রষ্টার দিক থেকেই বিশ্লেষণ করে। কিন্তু বিজ্ঞান এসবকে অস্বীকার করে। কারণ সৃষ্টির সাইডে থাকায় বিজ্ঞান এসবের হিসাব মিলাতে পারেনা। আবার অন্যদিকে বিজ্ঞান বিবর্তনবাদ, ডাইনোসর ইত্যাদি বিশ্বাস করে, যা অহী অস্বীকার করে। কারণ স্রষ্টার সাইডে থাকা অহী এসবকে স্রষ্টার কর্মপন্থার সাথে লিংকড আপ করতে রাজী না।

সুতরাং, বিজ্ঞান ও অহীর মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই সংঘাত হয়। যদি বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে অহীর বিচার করতে বসেন তাহলে নির্ঘাত কোরআনে ভুল পাবেন (নাউযুবিল্লাহ)। আর যদি অহীর উপর নির্ভর করে বিজ্ঞানকে বিচার করতে যান তাহলে অনেককিছুই হিসেব মিলবেনা।

কিন্তু একটা মজার বিষয় হচ্ছে, অহীর ব্যাপারে বিজ্ঞান যতটা কট্টর ও উগ্র, বিজ্ঞানের ব্যাপারে অহী ততটা কট্টর না। বরং বিজ্ঞানের সাথে মেলবন্ধন নির্মাণে অহীকে অনেক অগ্রগামী দেখা যায়। কারণ বিজ্ঞান যতটা চাঁছাছোলা সমীকরণ দেয়, অহী ঠিক ততটাই নমনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করে।

হ্যাঁ, একথা সত্য যে, বিজ্ঞান চুলচেরা বিশ্লেষণে অভ্যস্ত। এবং চুলচেরা সূত্র ছাড়া কোনোকিছুকে গ্রহণ করেনা। কিন্তু এটাও তো একান্তই বিজ্ঞানের নিজের দাড় করানো সিস্টেম। নিজেদের সিস্টেমে যাই প্রমাণ করুক অন্যের সিস্টেমকে স্বীকৃতি দিতে বিজ্ঞান নারাজ, বিশেষ করে অহীর সিস্টেমকে। আর এদিকে অহীও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে অভ্যস্ত তবে তা অহীর নিজস্ব সিস্টেমের উপর ভিত্তি করেই। কিন্তু তথাপি অহী নিজের সিস্টেমের পাশাপাশি অন্যের সিস্টেমকে গ্রহণ না করলেও তাকে একটি সিস্টেম হিসেবে স্বীকৃতি ঠিকই দেয়। এবং এর জন্য বিস্তৃত পরিধিও ছাড় দেয়।

কথাগুলো জটিল মনে হলেও এটাই বাস্তবতা। তাই সিস্টেম বা মতবাদের দৃষ্টিকোন থেকে বিজ্ঞান জিনিসটা অহী বা ধর্মের চেয়েও কট্টর।

সর্বকালের মুসলিম বিজ্ঞানীদের তালিকা জানুন এই আর্টিক্যালে

সর্বকালের মুসলিম বিজ্ঞানীদের একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা হয়েছে। আমরা আজ সে তালিকাটি আপনাদের জন্য উপস্থাপন করছি।

এখানে অনেক বিজ্ঞানীর নাম কয়েকবার কয়েকটি বিষয়ে এসেছে। যার দ্বারা বুঝা যায় যে তারা একই সাথে একাধিক বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন।

এরকম আরো লেখা পড়তে ফেসবুকে ফলো করুন এই পেইজ

Share this article

Leave a Reply