গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখছেন? 4 টি ইসলামী মূলনীতি জেনে রাখুন

Share this article
গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখছেন বা শিখতে চান? এই প্রবন্ধটি আপনার জন্য

গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার নতুন একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে উঠতি যুবকদের মধ্যে। বিষয়টি আশাব্যঞ্জক এবং সম্ভাবনাময়। যদি একজন মুসলিম যুবক যুবতী ইসলাম, নৈতিক ও মানবিকতার স্বার্থে নিজের ডিজাইনিং দক্ষতাকে কাজে লাগায় তা শুধু উপার্জনের মধ্যমই হবেনা, বরং সদকায়ে জারিয়া ও দ্বীনী দাওয়াতের সওয়াবও অর্জন হবে। ইন শা আল্লাহ। আমরা মোট চারটি ধাপে ইসলামের দৃষ্টিতে ডিজাইনিং জগত নিয়ে আলোচনা করবো। এ বিষয়ে তেমন কোন লেখাজোঁকা না থাকায় ডিজাইনিং প্রেমী মুসলিম যুবসমাজ প্রায় সময় হীনমন্যতায় ভোগেন। আসুন আমরা জেনে নিই ইসলামের দৃষ্টিতে আমরা কিভাবে আমাদের এই মেধাকে কাজে লাগাতে পারি।

নিম্নোক্ত চারটি বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আলাপ করবোঃ

) ইসলামে ডিজাইনের আইডিয়া
) ইসলামী ডিজাইনের দিকনির্দেশনা
) সুষ্ঠু ডিজাইনের স্বতন্ত্র পরিমন্ডল সৃষ্টি করা
) ইসলামি   ডিজাইনের  ভবিষ্যত
১) ডিজাইনের আইডিয়া ও উপাদান

নবীদের যুগে যেভাবে ডিজাইনিং ক্রমবিকাশ ঘটেছেঃ

ডিজাইনিং আজকাল ভার্চুয়াল জগতের মৌলিক অংশ দখল করলেও, মানবেতিহাসের সূচনালগ্ন থেকেই মানুষ নকশা ও চিত্রের মাধ্যমে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের বিষয়টির আলাদা প্রভাব উপলব্ধি করতে শুরু করে। কারণ মানুষ শিল্পপ্রিয়। জান্নাতেই মানুষের প্রথম নিবাস। আর জান্নাত হলো কারুকার্য ও শিল্পের সর্বোচ্চ অনিন্দ ভুবন। আদম (আ) জান্নাত থেকে বেশ কিছু জিনিস সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। এর মধ্যে হাজরে আসওয়াদ নামের একটি জান্নাতি পাথর ছিলো। সেই পাথর যারা দেখেছেন তারা বলতে পারবেন তা কতটা শৈল্পিক।

আল্লাহ দুনিয়াতে আদমকে (আ) পাঠানোর পাশাপাশি পোশাক ও অলংকারের শিল্পজ্ঞান দান করলেন। আদম (আ) তার সন্তানদেরকে ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন নকশার মাধ্যমে। সেসব ভাষাচিত্র ছিলো নান্দনিক। এসব নকশা ও চিত্র আকৃষ্ট করতো মানবচিত্তকে। মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই শিল্পপ্রেমী।

এরপর নূহ (আ) এর সময়ে স্থাপত্য শিল্পের উন্মেষ ঘটে। তিনি দৃষ্টিনন্দন জাহাজ নির্মাণ করেন। এতে আল্লাহ প্রদত্ত ইঞ্জিনিয়ারিং জ্ঞান নিহিত ছিলো। তা নাহলে এত বিশাল জাহাজ নির্মাণ করে তা সফলভাবে পানিতে ভাসানো সহজ ব্যাপার ছিলোনা। কোরআনের ভাষায় জাহাজটি ছিলো তক্তার নিপুন জোড়াগাঁথা।

সুলাইমান (আ) এর সময়ে শিল্প আরো এক ধাপ এগিয়ে যায়। তিনি লৌহ তৈজসপত্র নির্মাণে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। এছাড়া কাঁচশিল্পের আবিষ্কারকও তিনিই ছিলেন। বিভিন্ন লোহার ঢালার, তরবারি ইত্যাদি আলপনা সমেত নির্মাণ করতেন। তাঁর সিংহাসনটাও ছিলো দেখার মত। এছাড়া কাঁচের ব্রিজ নির্মাণ করে অভূতপূর্ব শিল্পের সূচনা করেন। তাঁর নির্দেশে জ্বীনরা বিশাল আকারের শৈল্পিক ফলক নির্মাণ করত। সাবা প্রদেশের রাণীকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পাঠানো পত্রতেও ছিলো তাঁর হাতের নান্দনিক ছোঁয়া।

ইব্রাহীম (আ) এর কাবা নির্মাণ ছিলো কেয়ামত অবধি টিকে থাকার মত স্থাপত্যশৈলী। যে পাথরের উপর দাঁড়িয়ে তিনি কাবা নির্মাণ করেন সেই পদচিহ্ন মাকামে ইবরাহিম হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে আছে, এটাও এক অভিনব শিল্পের স্বারক। ইবরাহীম (আ) এর দাওয়াতী কথামালা ছিলো আরো বেশি শৈল্পিক। পিতার সাথে তাঁর উচ্চমার্গের আলাপ, নমরুদকে বিহ্বল করে দেয়া বাক্য। পৌত্তলিক সমাজকে সম্বোধন করে চন্দ্র-সূর্য-তারকার সেই ঐতিহাসিক উপমা! কাবা চত্বরে দাঁড়িয়ে অনাগত মানবজাতিকে উদ্দেশ্য করে করা হজের আমন্ত্রণ, রব্বের দরবারে জানানো আবেগঘন আকুতি- সবই ছিলো বসন্তের একেকটি অমিয় ফল্গুধারা।

মুসা (আ) এর জন্মের পর থেকেই শিল্পের ছোঁয়া লাগতে শুরু করে। উনাকে যে বাক্সে করে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন উনার মা, সেই বাক্স এখনো খুঁজে ফিরে ইহুদিরা। এর রেপ্লিকাও তারা তৈরি করেছে। যে ফিরাউনের কাছে তিনি লালিত হয়েছেন সেই রাজপ্রাসাদ ছিলো শিল্পের ভান্ডার। পিরামিডগুলো তো এখনো সপ্তাশ্চর্যের নমুনা। যদিও এসবের সাথে মুসা (আ) এর কোন সম্পর্ক ছিলোনা। আমরা শুধুমাত্র শিল্পের বিকাশের ক্রমধারা বুঝতে এসব টানছি। যে নবীর যুগে যে শিল্পের বিকাশ ছিলো তাঁরা সেসব দাওয়াতের কাজে দ্রবীভূত করে প্রয়োগ করেছেন।

রাসূলদের মুজিযাগুলো ছিলো শৈল্পিক আবরণে অলৌকিকভাবে প্রকৃতির নিয়মভাঙ্গা খোদা প্রদত্ত ক্ষমতা। এখানেও শিল্প কিংবা সাহিত্যের ছোঁয়া থাকে। যেমন মূসা (আ) এর হাতের শুভ্রতা; এর সাথে পৃথিবীর কোনো আলোকের তুলনা হতে পারেনা। মুহাম্মদ (স) এর উপর নাযিলকৃত কোরআন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সাহিত্য সম্ভার। সকল নবী-রাসূলদের বাণী ছিলো দুনিয়ার সেরা উক্তি বা বক্তব্য। দাওয়াতী ডিজাইনের জন্য এর চেয়ে উত্তম উপকরণ আর কি হতে পারে? এর চেয়ে বড় বিষয় হলো নবী রাসূলদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রয়োগকৃত পন্থা ও পদ্ধতি আমাদের জন্য আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ রেখে গেছে। এখন আমরা সেসব নিয়ে অল্প কথায় আলোচনা করবো।

আহমাদ দিদাত ও নতুন আইডিয়াঃ

বিখ্যাত দাঈ আহমদ দিদাত সাউথ আফ্রিকার এক সমুদ্রতীরে গিয়ে দেখেন একজন লোক একটি প্লেকার্ডে “যিশু ঈশ্বর” লিখে দাঁড়িয়ে আছে। পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ঘটনাটি দেখে আহমদ দিদাত ভাবলেন এটা তো এক অভিনব পন্থা। একটি বাতেল ধর্মের দিকে আহ্বান করতে খৃষ্টানরা কত কৌশলই না অবলম্বন করছে। অথচ ঠিক এমনই এক কৌশল দিয়েই শুরু হয়েছিলো আমাদের রাসূলের দাওয়াতী মিশন।

সফা পাহাড়ে প্রথম দাওয়াতঃ

قام رسول الله صلى الله عليه وسلم على الصفا, ثم نادى: ” يا صَباحاهُ”, فاجتمع الناس إليه, فبين رجل يجيء, وبين آخر يبعث رسوله, فقال: ” يا بَنِي هَاشِمٍ, يا بَنِي عَبْدِ المُطَّلِبِ, يا بَنِي فِهْرٍ, يا بَنِي يا بَنِي, أرَأَيْتَكُمْ لَوْ أخْبَرْتُكُمْ أنَّ خَيْلا بِسَفْحِ هَذَا الجَبَلِ تُرِيدُ أنْ تُغِيرَ عَلَيْكُمْ صَدَّقْتُمُونِي؟ ” قالوا: نعم, قال: ” فإنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ

হাদিসটির অনুবাদে যাওয়ার আগে একটু ভূমিকা বলা দরকার। আচ্ছা, আমাদের ডিজাইনের উদ্দেশ্য কি? আজকাল তো সবাই ভার্চুয়াল জগতে এমনই ব্যস্ত যে আমরা স্ক্রল করতেই থাকি করতেই থাকি… আর আমাদের স্ক্রলিং থামানোর জন্য বিভিন্ন কোম্পানীর কত কসরত। শুধু একটুখানি আমাদের মনযোগ বা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারলেই আমাদের স্ক্রলিং থেমে যায়। চিত্তকর কিছু দেখলেই আমরা স্ক্রলিং থামিয়ে সেটা পড়ি। জাস্ট এটুকুই দরকার। এই ফাঁকেই যেখানে আমাদের চোখ আটকে গেছে সেখানকার বার্তাটি আমাদের মনে পৌঁছে যায়। আর এটাই ডিজাইনিঙের আধুনিক উদ্দেশ্য। নিত্য নতুন ডিজাইন দিয়ে আমাদেরকে ভড়কে দিয়ে তাদের মেসেজটা আমাদের মনে গেঁথে দেয়া। এবার আসুন হাদিসের অর্থটি এবং ঘটনাটি মনযোগ দিয়ে পড়িঃ

রাসুলুল্লাহ (স) সফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে ডাক দিয়ে বললেনঃ হুশিয়ার! সাবধান! লোকে পড়িমরি করে তাঁর সামনে এসে জড়ো হলো। মহল্লার সবাই আসলো, যারা আসতে পারছিলো না তারা লোক পাঠালো। তিনি বললেনঃ হে বনী হাশেমের লোকেরা, হে বনী আব্দুল মুত্তলিবের লোকেরা, হে বনী ফেহের, হে অমুক, হে তমুক, আমি যদি সংবাদ দিই যে এই পাহাড়ের পিছনের পাদদেশে একদল আততায়ী ঘাপটি মেরে আছে তোমাদের উপর হামলা চালানোর জন্য, তোমরা কি তা বিশ্বাস করবে?! তারা বললঃ হ্যাঁ অবশ্যই। অতঃপর তিনি বললেনঃ প্রচন্ড এক আযাবের বিষয়ে আমি তোমাদের কাছে সতর্ককারী হিসেবে এসেছি…

রাসুলুল্লাহ (স) এর কী প্রজ্ঞা দেখুন। তখনকার সবচেয়ে কার্যকর পন্থা তিনি দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করলেন। এভাবেই তিনি সবসময় পরিস্থিতি অনুযায়ী হাতের কাছে থাকা মিডীয়াকে ব্যবহার করতেন। চলুন আরেকটি অভিনব দাওয়াতী কৌশল দেখিঃ

বাজারে মৃত ছাগলঃ

ব্যস্তময় হাট-বাজারে রাসুলুল্লাহ (স) একদিন প্রবেশ করে দেখলেন মানুষজন বেচাকেনায় প্রচন্ড ব্যস্ত। বাজারের শেষপ্রান্তে ময়লার ভাগাড়ে দেখা গেলো একটা বামুন কানের বিকলাঙ্গ মৃত ছাগল। তিনি ছাগলটির কান ধরে হাঁক দিয়ে বললেনঃ কে আছো এই ছাগলটি আমার থেকে ১ দিরহাম দিয়ে কিনে নিবে? লোক জমায়েত হয়ে বললঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! একটা মরা ছাগল তার উপর বিকলাঙ্গ, এটা কে ১ দিরহাম দিয়ে কিনবে? রাসুলুল্লাহ (স) বললেনঃ আচ্ছা, এটা বিনামূল্যে নিবে এমন কেউ আছো? তারা বললঃ যদি এটা জীবিতও হতো তবুও তো এটার ত্রুটির কারণে বিক্রি হতো না। মৃত অবস্থায় কি হবে এটা দিয়ে? রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম, এই ছাগলটা তোমাদের কাছে যতটা মূল্যহীন, আল্লাহর কাছে এই দুনিয়া এর চেয়েও বেশি মূল্যহীন। (মুসলিম)  

কি বুঝলেন? হাতের কাছের উপকরণকে দ্বীনের দাওয়াতে ব্যবহার করার আইডিয়া প্রতিটি যুগের নবীদের বিশেষ যোগ্যতা ছিলো। আপনাদের মধ্যেও ডিজাইনিঙয়ের যে দক্ষতা বিরাজমান তা দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করার অনুপ্রেরণা এখানেই নিহিত। আসুন এবার রাসুলুল্লাহ’র (স) ডিজাইনিং আইডিয়া কেমন ছিলো তা দেখি।

ডায়াগ্রামঃ

আঁকিবুঁকি যে রাসুলুল্লাহ কখনও করেন নি তা কিন্তু না। অনেক ধরণের হাদিস পাওয়া যায় যা প্রমাণ করে রাসুলুল্লাহ আর্ট মেধা বা ডিজাইনিং আইডিয়া ছিলো। এমনকি কোরআনের তাফসীর বুঝাতেও তিনি সাহাবীদেরকে এঁকে এঁকে দেখিয়েছেন। সূরা আনআমের ১৫৩ নং আয়াত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ একদিন একটি সমান্তরাল লম্বা দাগ আঁকলেন, এরপর বললেন- এটা হলো সিরাতে মুস্তাকীম; সহজ সরল দ্বীনের পথ। এরপর এর ডানে-বামে কতগুলো ছোট ছোট লাইন আঁকলেন। বললেনঃ আর এগুলো হচ্ছে বাতিল পথ যার প্রতিটিতে শয়তান বসে সেদিকে আহ্বান করছে। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ “এটা হলো আমার সিরাতে মুস্তাকীম, এর অনুসরণ করো। শয়তানের অগুনিত পথের ফাদে পা দিও না, তাহলে এই সিরাতে মুস্তাকীমের পথ থেকে তোমরা দলছুট হয়ে যাবে”। (আনআমঃ ১৫৩) ( আহমদঃ ৪১৪২)

একই ধরণের আরেকটি হাদিস দেখিঃ

আনাস (রা) বলেন- রাসুলুল্লাহ (স) কয়েকটি দাগ টানলেন, একটাকে দেখিয়ে বললেনঃ এটা হলো মানুষ, আর এটা তাঁর আয়ু, এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ সামনে আরেকটি দাগ চলে আসে মৃত্যুর বার্তা নিয়ে। (বুখারী)

ক্লিয়ার হচ্ছেনা? আসলে হাদীসটার বিশদ বর্ণনা আছে। আসেন সেটা দেখি। তাহলে ডিজাইনটা ক্লিয়ার হবে।

এটা বলেছেন ইবনে মাসউদ (রা)। রাসুলুল্লাহ (স) একটি চতুস্কোণ বর্গক্ষেত্র আঁকলেন, এর ঠিক মধ্যবিন্দু থেকে আরেকটি লাইন আঁকলেন যেটা চতুষ্কোণ ভেদ করে বাহিরে চলে এসেছে। এরপর লাইনটির যে অংশ চতুষ্কোনের ভিতরে অবস্থান করছে এর আশেপাশে অএঙ্কগুলো ছোট ছোট দাগ আঁকলেন। এরপর বললেনঃ এটা হলো মানুষের অবস্থা, এই যে চারপাশের চৌহদ্দি এটা তার আয়ুষ্কাল।

আর যে লম্বা রেখাটা তার আয়ুষ্কালকেও ভেদ করে চলে গেছে সেটা হলো তার আশা-আকাংখা। আর এই যে ভিতরের ছোট ছোট দাগগুলো- এগুলো তার জীবনপথের নানান জটিলতা, আশার পিছনে ছুটতে গিয়ে সে কখনও এসব জটিলতার ছোবলে আক্রান্ত হয়। আর জটিলতা থেকে বেঁচে গেলেও আশার পিছনে ছুটতে গিয়ে সে আয়ুষ্কালের সমাপ্তির ছোবলে শেষ হয়ে যায়, আশা আর পুরায় না। (বুখারী)

লক্ষ্য করলে দেখবেন, হাদিসদ্বয়ের এই আইডিয়া যদি আপনি আকতে চান বেশ কয়েকটি চিত্র অংকন করা সম্ভব। রাসূলের মুখের বানী যেমন বহুমাত্রিক, তেমনি তাঁর অংকনও বহুমাত্রিক সম্ভাব্যতা রাখে।

এ তো গেল রাসুলুল্লাহ (স) এর নিজের হাতের শিল্পকলা। তাঁর পবিত্র মুখ নিঃসৃত বানী আরো বেশি অলংকারিক, শৈল্পিক ও রূপকতায় ভরপুর।

এবার ইসলামি ডিজাইনের দিকনির্দেশনা হিসেবে আমরা সেসব নিয়ে আলোচনা করবো।

২) ইসলামী ডিজাইনের দিকনির্দেশনা

রূপায়ন চিত্রায়ন দৃশ্যপটঃ

জান্নাত নিজ চোখে দেখে এসেছেন রাসুলে আরাবী। সাহাবিদের মাঝে তিনি প্রায়ই জান্নাতের চিত্র তুলে ধরতেন। সেসব এত নিখুঁত ছিলো যে এখন উনার কথা অনুযায়ী মাপজোক করে দেখা যায় বৈজ্ঞানিকভাবেও সেসবের হিসেব নিকেশ নির্ভুল। যেমন জান্নাতের দরজার মাপ। হাজরে কাউসারের মাপ। শুধুমাত্র চোখের মাপেই এভাবে মেপে ফেলতে পারা মুজিযাই বটে। নবীর উম্মত হিসেবে আমাদেরও মাপজোক দেখেই বুঝতে পারার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আর কল্পনা ও কোরআন হাদীসের বর্ণনাকে আত্মস্থ করতে জানতে হবে। এর বর্ণনাকে রূপায়ন করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সেইসাথে কল্পনার দিগন্তকে বিস্তৃত করার মেধা অর্জন করতে হবে। এক্ষেত্রে সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য উক্তি হচ্ছে “Make it simple, but significant.” কথাটি বলেছিলেন একজন ফিকশন নির্মাতা ডন ড্রাপার।

কোরআনের সিরিয়ালঃ

আচ্ছা, কোরআনে কি শিল্প আছে? হ্যাঁ, আলবৎ আছে। কোরআনের বর্ণনার পরতে পরতে তো শিল্পকলা আছেই, এমনকি খোদ কোরআনের ভিতরেও আছে ক্রমবিন্যাসের শিল্প কৌশল। কোরআন ছন্দপতনকে পছন্দ করে। খেয়াল করলে দেখা যায়, কোরআনের সূরাগুলো নাযিলের ক্রমধারাকে অনুসরণ করেনি। আবার ছোট থেকে বড়, কিংবা বড় থেকে ছোট সূরার সিকোয়েন্স অনুযায়ীও সাজায়নি। আবার বিষয়ভিত্তিকভাবেও সাজায়নি। সাদা চোখে এলোমেলো মনে হলেও কোরআনের বক্ষ্যমাণ ক্রম নিজেরই একটা অনবদ্য ও স্বকীয় ধারা ফলো করেছে। আবার দেখুন, সবগুলো সূরাতে বিসমিল্লাহ দিয়ে আসতে আসতে মাঝে সূরা তাওবায় মিসিং। আবার সেই মিসিংটা সূরা নমলে পুনঃসংযোজন করা হয়েছে। এখান থেকে আমরা একটা আইডিয়া নিতে পারি, তা হলো- প্রবাহমান ধারাতে ছন্দপতন আনা এটাও আরেক ধরনের দক্ষতাজ্ঞান।

হাসসান বিন সাবেতকে নিয়োগঃ

ইসলামের বিরুদ্ধে আপতিত আঘাতগুলোর জবাব আমরা কিভাবে কতভাবে দিতে পারি? মক্কার কুরাইশদের নানান কুটচাল বানচাল করতে কোরআনের অহী নাযিলই যথেষ্ট ছিলো। জীবরীল (আ) কাফেরদের প্রতি অপবাদের জবাব নিয়ে হাজির হতেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (স) ছিলেন সর্বকালের সর্বাধিনায়ক। তিনি কুরাইশদের হাতিয়ার দিয়েই কুরাইশদেরকে পরাস্ত করেছেন। কুরাইশরা কবিতার মাধ্যমে বিষেদাগার করতো। এর পাল্টা আঘাত দিতে তিনি একদল কবি সাহাবিদের নিয়োগ দেন। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন সাহাবী হাসান বিন সাবিত (রা)। শুধু তাই নয়, যেখানে মসজিদে নববীতে কেবল রাসুলুল্লাহ’র জন্য মিম্বর ছিলো সেখানে তিনি এর পাশে হাসান বিন সাবিতের জন্য আরেকটি মিম্বরের ব্যবস্থা করেন। অর্থাৎ, সমসাময়িক নেতার সমমানের সম্মান ও স্থান তিনি দাওয়াতী নেতৃত্বকেও প্রদান করেছেন।

ডিজাইনিঙের আওতাঃ

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ কে এক ব্যক্তি ছবি আকার অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি উত্তরে বললেনঃ যদি তোমার ছবি এঁকে উপার্জন করতেই হয় তাহলে তুমি গাছের ছবি আকো বা এমন ছবি আকো যাতে কোনো প্রাণীর ছবি নেই।

فعليك بهذا الشجر، كل شيء ليس فيه روح

(সহীহ বুখারী- ২২২৫)

আমরা অনেকেই মনে করে থাকি ডিজাইন মানেই প্রাণীর ছবি ছাড়া তা অপূর্ণ থেকে যায়। যেমন আমরা আগেই বলেছি ইসলাম আপনাকে গন্ডির বাহিরে এসে ভাবতে শিখাবে। গড্ডলিকা প্রবাহের বিপরীতে এসে নতুন ভুবন নির্মাণের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। ইবনে আব্বাস (রা) এর কথা থেকেই এটি স্পষ্ট হয়ে যায়। আঁকুন, প্রকৃতিতে আঁকিয়েদের জন্য বিশাল ভান্ডার অবারিত রয়ে গেছে। প্রকৃতিকে নিজেদের মধ্যে দ্রবীভূত করতে একজন ডিজাইনারের দক্ষ হাতই উপযুক্ত। বর্তমান সময়ের বিভিন্ন প্রতীক ও সিম্বল খেয়াল করুন।

আধুনিক নেটিজেনরা বড় বিষয়কে ছোট সিম্বলের ফ্রেমে বন্দি করতেই বেশি পছন্দ করে। যেমন GYM বুঝাতে ইংরেজী G ব্যবহার, পার্ক বুঝাতে ফুলের ছবি, নারীত্ব বুঝাতে কাশফুলে, বেদনা বুঝাতে নীল রঙ, ভালোবাসা বুঝাতে হৃদয়ের সিম্বল। এভাবেই আমদের এমন একটা সিম্বলিক পৃথিবী সৃষ্টি করা দরকার যেখানে আমরা নতুন করে সবাই ভাবতে বাধ্য হব, চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগাতে পারবো, কল্পনার উৎকর্ষতা উন্নত হবে। মায়া এঙ্গেলু নামের একজন সমাজসেবী বলেছিলেন- “You can’t use up creativity. The more you use, the more you have.”

সাধারণ ডিজাইনই কাম্য

৩) ডিজাইনের স্বতন্ত্র  পরিবেশ সৃষ্টি করাঃ

পুরো বিশ্বের ডিজাইন মানচিত্র খেয়াল করলে দেখা যায় একেক দেশ বা জাতির কাছে একেক রকমের ডিজাইনের প্রতি আলাদা আকর্ষণ আছে। যেমন আরবদের ডিজাইনে এরাবিয়ান একটা থীম থাকে, তেমনি প্রাচ্যের ডিজাইনগুলো হয় অন্য রকম। পশ্চিমা বিশ্বের ডিজাইন তাঁদের রুচি আর সংস্কৃতির বহিপ্রকাশ। একইভাবে ইসলামি জগতের ডিজাইনেও উন্নয়ন ও স্বকীয়তা নির্মাণ প্রয়োজন আছে। পাশ্চাত্য বা গতানুগতিক ডিজাইনের অনুসরণ না করে নিজস্ব বলয় তৈরি করলে একদিকে নিজেদের বৈশিষ্ট্য যেমন ধরে রাখা যাবে, অন্যদিকে অন্যরাও এর অনুকরণ করতে বাধ্য হবে।  

সাহাবীরা ঢাল তরবারিতে ডিজাইন করতেনঃ

ইসলামের প্রথম প্রজন্ম সাহাবীরাও নিজেদের ব্যবহার্য জিনিসিপত্রে নকশা আঁকতেন। তরবারি, ঢাল, তৈজসপত্র, আংটি ইত্যাদিতে। বিশেষত ক্যালিগ্রাফীর উদ্ভব হয় এ সময়। বিভিন্ন সাহাবীরা নিজেদের প্রচেষ্টায় কোরআনের লেখা সংগ্রহে রাখতেন। সেইসব লেখা যেমন ছিলো নান্দনিক, এর মলাট হিসেবে ব্যবহিত জিনিসেও থাকতো সুন্দর সুন্দর নকশা। পরে হযরত উসমানের সময়ে যখন চূড়ান্ত কপি তৈরি হয় এবং তা বিভিন্ন প্রদেশে পাঠানো হয় সেগুলোতেও দৃষ্টিনন্দন নকশা ছিলো। এভাবে কোরআনের কপিতে আলংকরিক নকশা আঁকার প্রচলন শুরু হয়। আমরা বিভিন্ন খেলাফত ও ইসলামী ইমারতের অধীনে লিখিত কোরআনের প্রাচীন কপি যেগুলো বিভিন্ন জাদুঘরে দেখতে পায় তা কালের সাক্ষী হয়ে আছে যে প্রতিটি যুগের শিল্পকলাকে কিভাবে মুসলিমরা নিজেদের মতো করে সাজিয়েছিলেন।

আমাদের সময়েও ডিজাইনের ক্রমবিকাশঃ

আমাদের এই একবিংশ শতাব্দীতেও প্রতি কিছুকাল পরপর ডিজাইনিং জগতে পরিবর্তন ও রুচির ভিন্নতা তৈরি হচ্ছে। নব্বয়ের দশকে যে ধরণের বিজ্ঞাপন দেখা যেত তা দিয়ে কিন্তু এখন আর দর্শক বা ক্রেতার মন আকর্ষণ করা সম্ভব না। ২০০০ সালের দিকের যেসব আর্ট দেখা যেত তা এখন আর মানুষের মন টানেনা। এমনকি সম্প্রতি গত কয়েক বছর আগের স্টাইলে কেউ এখন ডিজাইন করলে তা কোনোভাবেই সাড়া ফেলবেনা। এটাই শিল্পের রীতি, ডিজাইনের ধর্ম। এগুলো গতি বদলায়, দিক পাল্টায়। আমাদের সামনেও এমন চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সমান তালে চলতে না পারলে আমাদের ক্ষণিকের প্রচেষ্টা হারিয়ে যাবে অন্যদের প্রবাহে।

বিকল্প সৃষ্টিঃ

এভাবে প্রতিটি যুগে মুসলিমদের আলাদা স্বকীয় শিল্প ধাঁচ ও বলয় সৃষ্টি হয়। এছাড়া স্পেনের মুসলিম স্থাপত্য দেখুন। এখনো অমুসলিমরা পর্যন্ত অবাক হয় এসব দেখে। সত্যিকারের শিল্প ও কারুকার্য এখানেই তাঁর সীমাহীন দিগন্ত মেলে দিয়েছে। যা এখনো পশ্চিমা বিশ্বের রঙচঙে শিল্পের জঞ্জালের মধ্যেও এক টুকরো সবুজ প্রকৃতি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম সাম্রাজ্যের সময়েও একান্ত ইসলামী ধারার ডিজাইনিং প্রচলন হয়। যার রেশ এখনো রয়ে গেছে আমাদের সমাজে। এভাবেই আসলে প্রতিটি সম্প্রদায় ও ভূখণ্ডের আলাদা আলাদা শিল্পকর্ম বলয় আমাদের চোখে পড়ে। আমাদেরও এমন একটি নিজস্বতা নির্মাণের বিষয়টি সবসময় মাথায় রাখা উচিত।

মানচিত্র, কোরআনের নুসখা, কাবার গিলাফ, ইনফোগ্রাফিঃ

মুসলিমের ডিজাইন হবে অর্থবহ, শিক্ষামূলক, তথ্যসমৃদ্ধ এবং ইসলামের শক্তিতে তেজস্বী। প্রাচীন কাল থেকেই অহেতুক শিল্পের পিছনে সময় না দিয়ে মুসলিমরা উপকারী ডিজাইনে সময় দিয়েছে। এ কারণে দেখা যায় অন্তঃসারশুন্য শিল্প জগতে মুসলিমদের ভূমিকা নেই বললেই চলে। আবার যেসবে মুসলিমরা হাত দিয়েছে সেখানে তারাই এগিয়ে। যেমন মানচিত্র শিল্প। বই বা পুস্তক জগতে নকশার প্রয়োগ। যা কোরআনের প্রতি মুসলিমদের যত্ন ও ভালোবাসার হাত ধরেই বিশ্ব চিনেছে। অধুনা বিশ্ব ক্যালিগ্রাফীকে আলাদাভাবে সমীহ করতে শুরু করেছে। কাবার গিলাফ এই শিল্পকে যুগ যুগান্তর ধরে লালন করে এসেছে। এছাড়া যেটাকে আমরা এখন ডায়াগ্রাম বলি বা ইনফোগ্রাফ বলি এগুলোর জন্মদাতাও মুসলিম সভ্যতা। এগুলো সামান্য কিছু নমুনা মাত্র, ইসলামী ডিজাইন জগত আদতে এতই গভীর ও রহস্যময় যে এখনো ঠিকমত এর কিনারাও আমরা ধরতে পারিনি।

৪) ইসলামি   ডিজাইনের  ভবিষ্যতঃ

আমাদের ভবিষ্যতটা কেমন হবে, বিশেষ করে স্যোশাল মিডীয়া নির্ভর এই প্লাটফর্ম এবং ভবিষ্যতের মেটাভার্সের চোখ রাঙ্গানির সামনে আমাদের মধ্যে কি পরিবর্তন বা প্রভাব আসবে সেটা নিয়েও আগে থেকে ভেবে রাখা দরকার।

আযানের প্রচলনঃ

আচ্ছা, ইসলামে আযানের প্রচলন কিভাবে হলো বলতে পারেন? হ্যাঁ, একটি স্বপ্নকে কেন্দ্র করে এর আবির্ভাব। ইসলাম প্রতিটি সামাজিক চাহিদাকে এভাবেই প্রাকৃতিকভাবে সমাধান করেছে, করে থাকে। আযানের স্বপ্নের একটা গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য আছে আমাদের ডিজাইনের ভবিষ্যতের জন্যেও। আযানের সেই স্বপ্নে সাহাবী দেখেন মানুষজনকে ডাকার জন্য আগুন জ্বালিয়ে সংকেত দেয়ার ধারণা, এটা নাকচ করা হয়, এরপর আসে ঘন্টা বাজিয়ে জানানোর পরামর্শ, এটিও বাদ দেয়া হয়, এরপর আসে শিঙ্গা বাজিয়ে ডাকার সাজেশন। এটাও বাতিল করা হয়। সর্বশেষ আসে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক সমাধান। কন্ঠের সুমধুর আহ্বানে মুসল্লিদেরকে একত্রিত করার চূড়ান্ত ফায়সালা। ডিজাইনের ক্ষেত্রেও আমাদেরকে এভাবে সমাধান খুঁজতে হবে। আমাদের মনের ও কল্পনার ডিজাইনগুলোকে কৃত্রিমতা মুক্ত রেখে সঠিক চিত্রায়ন বের করে আনতে হবে।

সদকায়ে জারিয়ার নিয়তঃ

আপনার একটি ডিজাইনের মধ্যে বেঁচে থাকবে আপনার বার্তা। দ্বীনের বার্তা। ভালো কাজের প্রতি উৎসাহদানকারী সে কাজটি করার সমান সওয়াব পাবে। তাই বিচক্ষণতার সাথে আপনার ডিজাইন তৈরি করুন যা অনন্তকাল ধরে আপনার একাউন্টে সাওয়াব পৌঁছাতে থাকবে। আর এই নিয়তে ডিজাইনিং শেখাটাও দ্বীনী ইলমে পরিণত হবে। তাই সবসময় অন্তরে লালন করুন যে আপনার কাজের কারণে একটি দ্বীনী বার্তা দিগদিগন্তে পৌঁছে যাবে। খুলে দিবে শত মানুষের হেদায়েতের দুয়ার। ফিরিয়ে আনবে হাজারো পথভোলা মানুষকে আপন নীড়ে।

সেলেব্রেটিজমঃ

কিন্তু যে বিষয়টি থেকে সাবধান থাকা বাঞ্ছনীয় তা হলো, কোনোক্রমেই যেন আমরা প্রসিদ্ধি লাভের ফিতনায় না পড়ি, জড়িয়ে না পড়ি সেলেব্রিটিজমের ভয়াল ফাঁদে। তাহলে এক ধাক্কাতেই যাবতীয় সব আমল ধূলিস্যাৎ হতে সময় নিবেনা। এ এমন এক বিপদ যা সৎকর্মের পাশে পাশে শিকারী থাবা নিয়ে চলতে থাকে। একটুখানি সুযোগ পেলেই নেমে আসবে ভয়াল থাবা। আল্লাহর কাছে সবসময় এই ফিতনা থেকে আশ্রয় চাইতে হবে। এই ফিতনার নূন্যতম আভাস পেলেই সরে আসতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সক্ষা করুন। আমীন।

অপ্রচলিত মাসায়েলের ডিজাইনঃ

আমরা ডিজাইনররা নতুনত্বের ভুখা, নতুনত্বের ছোঁয়া দিয়ে রাঙ্গাতে চাই সবকিছু। এই ফাঁকে আমাদের মধ্যে অনেক সময় অপ্রচলিত ও বিরল বিতর্কিত মাসায়েল বা বাণী বা উক্তি আনার চেষ্টা করি ব্যতিক্রমী সারা ফেলার জন্য। মাঝেমধ্যে এটা ভালো ফল দিলেও অধিকাংশ সময় এটি হিতে বিপরীত হয়ে দাড়ায়। তাই আপনার ডিজাইনের ক্যাপশন ও বিষয় নিয়ে সন্দেহ থাকলে কোন বিজ্ঞ আলেমের সাথে প্রথমে পরামর্শ করুন।

একটি পরিকল্পিত সুষ্ঠু শিক্ষাচর্চা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়, সেটা যে বিষয়েরই হোক না কেন। তাই ডিজাইং শেখার আগে একবার হলেও জেনে নিন ইসলামের নির্দেশনা।

– উস্তায সাঈদুল মোস্তফা

Share this article

Leave a Reply

Your email address will not be published.