ন্যায়তন্ত্র বনাম নিরপেক্ষতা

Share this article
ন্যায়তন্ত্র বনাম নিরপেক্ষতা, কোনটি জরুরি?

সহজ করে বললে, পুত্র ও কন্যা পিতার সম্পত্তির সমান সমান ভাগ পাওয়া নিরপেক্ষ বিচার। আপনি আপনার সন্তানকে শাসন  করলে সে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে, এটাই নিরপেক্ষতা।

কিন্তু ন্যায়তন্ত্র ভিন্ন বস্তু। ন্যায়তন্ত্রে সন্তানকে লালন করা যেভাবে পিতার কর্তব্য, সন্তানকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে শাসন করাটাও পিতামাতার উপর দায়িত্ব। পুত্র যেহেতু ভবিষ্যতে ঘরের হাল ধরবে তাই পুত্র কন্যার চেয়ে বেশি উত্তরাধিকার সম্পত্তি পাওয়াটা ন্যায্য ও ন্যায়তন্ত্র।

কিছু ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ন্যায়তন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত, যেমন কেউ কাউকে খুন করলে এর বিনিময়ে খুনীকেও হত্যা করা হবে সমানে সমান। এটি ন্যায়তন্ত্র ও নিরপেক্ষতা। তবে বর্তমানে পশ্চিমে খুনের বদলায় ‘ফাঁসি, হত্যা, ইত্যাদি’ বাদ দিয়ে যাবজ্জীবনের নিয়ম করা হয়েছে। এটি ন্যায় ও নিরপেক্ষতা উভয়ের সাথেই সাংঘর্ষিক। প্রতিটি নিরপেক্ষতা যেমন ন্যায্য নয়, তেমনি ন্যায় মানেই যে নিরপেক্ষ হতে হবে এই চিন্তাও অসামঞ্জস্য।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষতা ন্যায়ের বিপরীত, সত্যি কথা বলতে “নিরপেক্ষতা” দিয়ে ন্যায়তন্ত্রকে আড়াল করার চক্রান্ত একটি বৈশ্বিক মিশন। কারণ পৃথিবীতে অস্থিত্বশীল সংবিধানগুলোর মধ্যে একমাত্র ইসলামই সঠিক ভারসাম্যপূর্ণ ন্যায়তন্ত্র ঘোষণা করেছে। তাই ন্যায়তন্ত্রকে ঠেকানোর যে পলিসি তা হলো “নিরপেক্ষতাবাদ”।

অনেক সময় আবার এই নিরপেক্ষতার ধ্বজাধারীরা “নারী অধিকার” “শিশু অধিকার” “সমকামী অধিকার” ইত্যাদি ফানুস উড়িয়ে তাদের চর্চিত “নিরপেক্ষ মতবাদ” পাশ কাটিয়ে যায়। যেমন সন্তানকে পিতা পেলে পুষে বড় করে তুললেও সন্তানের সম্পত্তিতে নিরপেক্ষ যুক্তিতে পিতার কোনো অধিকার নেই। পশ্চিমা সংবিধানগুলো এভাবেই তাদের আইন প্রণয়ন করেছে। এমনকি সন্তান টিনএজার হয়ে যাওয়ার পর তার উপর অভিভাবকের শাসন চলবেনা। সন্তান যেভাবে পিতার অনুমতি ছাড়াই তার সম্পদ ভোগ করে এসেছে, পিতা সেভাবে সন্তানের সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করতে পারবেনা।।

নিরপেক্ষতার হর্তাকর্তারা নিজেরাই সুবিধামত আবার “নিরপেক্ষতাবাদ” এর সংজ্ঞা ও আওতা পরিবর্তন করে। ক্ষমতায় গেলে নিরপেক্ষতার এক ব্যাখ্যা, বিরোধি দলে থাকলে অন্য অর্থ। এ থেকে বুঝা যায় ‘নিরপেক্ষতা’ একটি অন্তঃসারশূন্য ফাঁকা বুলি ছাড়া আর কিছু নয়। নাগরিক সমাজকে বশীভূত করে রাখার স্বার্থে এই ভুয়া স্লোগানের আবর্তন।

স্বয়ং যারাই নিরপেক্ষতার দাবীদার তারাই বলবে, কোনো আইন রাজা আর প্রজার উপর সমানভাবে প্রয়োগযোগ্য নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়মগুলো ভিআইপি কারো জন্যে পাশ কাটিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ইনসাফপূর্ণ সমাজে এই ধরণের নিরপেক্ষতার স্থান নেই। প্রকৃত ন্যায়তন্ত্রে বৈষম্যপূর্ণ নিরপেক্ষতা বলে কিছুই নেই।

 ইসলাম ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী, নিরপেক্ষতায় নয়। অনেকক্ষেত্রেই পক্ষপাতপূর্ণ বিচারই ন্যায়বিচার। যেমন পিতা যদি সন্তানের সম্পদ থেকে না বলেও কিছু নেয় তা পিতার জন্যে জায়েজ। কেয়ামতের দিবসে স্বয়ং আল্লাহ্‌ রব্বুল আলামীন মু’মিনদের জন্য পক্ষপাতী হবেন। রহমতের চাদর দিয়ে ঢেকে কাফেরদের দৃষ্টির আড়ালেই বিচারকার্য সম্পন্ন করে ক্ষমা করে দিবেন। এটাই ন্যায়বিচার।

তাই নিরপেক্ষতা একটি বায়বীয় অবাস্তব থিওরী মাত্র। এমনকি নিজের সন্তানদের মধ্যেও নিরপেক্ষভাবে আচরণ করা অসম্ভব, তবে ন্যায়তান্ত্রিকভাবে বা ইনসাফপূর্ণ আচরণ সম্ভব, বরং ওয়াজিব বটে।

সমাজ বিনির্মাণ নিয়ে আরো পড়ুন- সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মাণে সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থা

সাঈদুল মোস্তফা

Share this article