মহানবির মহান জীবন ১

Share this article
মহানবির মহান জীবন গল্পসিরাত অন্যরকম সিরাত

বসন্তের হাওয়ায় পরাগায়ন লেগেছে গাছে গাছে। কয়দিন আগেও শুষ্ক মৌসুমে যে গাছগুলো দেখে মনে হচ্ছিল এই বুঝি মরে যাবে,‌ বসন্তের শুরুতে নবীন মুকুল জীবনের নতুন বার্তা দিচ্ছে। বাজপাখির চোখের মত চকচকে আকাশে একফোঁটা মেদ থাকেনা। সমস্ত আকাশ যেন নীলাভ একফোঁটা জল। সূর্যের রেখে যাওয়া তেজ সন্ধ্যার একটু পরেই ধপ করে নেমে যায়। কারণ এখন রবিউল আউয়াল মাস। এ মৌসুমে রাতগুলো প্রশান্তির হয়। মাঝে মধ্যে ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও আসে। আরবরা তাই এ মৌসুমের নাম দিয়েছে রবী’ বা বসন্ত। বসন্ত এখানে বৃষ্টি আনে আর আনে নতুন খেজুর ফুলের মিহি ঘ্রাণ।[1]

রবিউল আউয়ালের দ্বিতীয় কি তৃতীয় সোমবার।[2] বাতাসে কেমন যেন এক ধরণের সুবাস। এমনটা প্রায় সময় হয়। মরুঝড়ের আগে যেমন ধূলোর মেটেল একটা গন্ধ ভাসে, পণ্য বোঝাই বাণিজ্য কাফেলা কাছাকাছি এলেও এক ধরণের সুবাস উড়ে আসে। উটের মত আরবদের নাকও খুব সংবেদনশীল। এরা বিপদ কিংবা সুসংবাদের ঘ্রাণ বেশ আগেই টের পেয়ে যায়। আজকেও বাতাসে সুসংবাদের কেমন একটা রহস্যময় ঘ্রাণ টের পাওয়া যাচ্ছে। এই তো ক’মাস আগেও আব্রাহা বাহিনীর আগমনে বিপদের গন্ধ ঠিকই পেয়েছিলো মক্কাবাসী।[3] কিন্তু হস্তী বাহিনীকে যখন কা’বার রব্ব তুষের মত মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিলেন, মক্কাবাসীর আতঙ্ক পরিণত হয়েছিলো আনন্দে।[4]

রাতের আকাশ কেটে ছুটে যাচ্ছে উল্কারাজি। ডাগর ডাগর চোখে মক্কার দিতে চেয়ে আছে দ্বাদশী চাঁদ। স্বপ্নটার কথা এখনো ভাবছেন আমিনা। এখনো কানে বাজছে শব্দগুলো- “তুমি এক বিশ্বনেতাকে গর্ভে ধারণ করছো, সে ভূমিষ্ঠ হলে নাম রেখো আহমদ ও মুহাম্মদ।[5] তাওরাত ও ইনজিলে সে আহমাদ নামে পরিচিত।[6]” কবে যে এই চাঁদের টুকরোকে কোলে নিতে পারবে সে কল্পনায় বিভোর সদ্য বিধবা হওয়া আমিনা। স্বামীশোক এখনো কাটেনি, কিন্তু তাঁর স্বপ্নের রাজ্য জুড়ে এখন একটাই অপেক্ষা, একমাত্র নাড়ির ধন রাজপুত্রকে কোলে নেয়ার আকাঙ্ক্ষা। এদিকে বিশ্বজাহানের প্রতিপালক ছক আঁকছেন বিশেষ কিছুর। ইব্রাহিমের (আ:) দোয়া মঞ্চায়িত হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। ঈসার (আ:) সুসংবাদের বরপুত্র ধরায় আসার সময় হলো বলে।[7] দীঘল জাহেলী রাতের আঁধার কেটে সুবহে সাদিকের অভ্যুদয় হতে আর দেরী নেই।

বিজলীর আলো ধরে রাখা গেলে যেমন দেখায়, অনেকটা তেমন এক স্বল্পস্থায়ী আলোধারা ছায়াপথের মত আমিনার ঘর থেকে চলে গেছে শামের দিকে, আলোকপথে সবকিছু উদ্ভাসিত করে দিয়ে যাচ্ছে।[8] কোনো রকম ব্যাথা বেদনা কিংবা আগাম আভাস ছাড়াই আমিনা আবিষ্কার করলেন তাঁর কোলে হাত-পা ছুড়ছে এক পূর্ণিমার চাঁদ। আলতো আদরে মাটিতে রাখতেই ছেলে উপুড় হয়ে মাথা উঁচু করে পিটপিট করে চেয়ে রইলো আকাশপানে। এ এক নজরকাড়া সূচনা চাঁদমণির। মক্কার বায়ুমণ্ডলে তখন লালচে আভা ছড়াতে শুরু করেছে নতুন দিনের সুবহে সাদিক।[9]

ব্যবসায়ীদের খুব ভোরেই জাগতে হয়, আর সে ব্যবসায়ী যদি হয় গোত্রনেতা তাহলে তো কথাই নেই। আব্দুল মুত্তলিব ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাহিরে যাবেন বলে।[10] এমন সময় ছুটন্ত পায়ের শব্দ এসে থামলো তাঁর ঘরের দরজায়। আব্দুল্লাহ’র ঘর আলো করে এসেছে এক রাজপুত্র! – এ সংবাদ শুনতেই পেটের মধ্যে অনেকগুলো প্রজাপতি উড়ে বেড়াতে লাগলো আব্দুল মুত্তলিবের। কালবিলম্ব না করে ছুটলেন নাতির চাঁদমুখ দেখতে।

ভবিষ্যত নেতাদের শৈশবে একটা সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য থাকে। বাল্যকালে যার আত্মীয়তার শেকড় যত বিস্তৃত হয়, বড় ও গ্রহণযোগ্য নেতা হওয়ার সম্ভাবনা তার তত বেশি থাকে। সমাজবিজ্ঞানের বিবেচনাতেও এটা সত্য। মুহাম্মদের মাথার উপর থেকে সব ধরণের মনুষ্য অভিভাবকত্বের ছায়া সরিয়ে, আবার তাঁকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রকমের আত্মীয়তার ডালপালা ছড়ানো– এইসব ছিলো মহাবিশ্বের মহান পরিচালকের মহাপরিকল্পনার অংশ।[11]

সুআইবাহ, এক ফাঁকে আমিনার ঘর থেকে দৌড়ে বের হলো ভোর ভাঙতেই, সামনে যাকেই পাচ্ছে আব্দুল্লাহপুত্রের শুভসংবাদ বিলাচ্ছে। মক্কায় সন্তান ভূমিষ্ঠের ঘটনা এমন আহামরি কিছু না। কিন্তু আমিনা হলো সুআইবাহ’র মত দাসী-গরিবদের সান্ত্বনার আশ্রয়স্থল, যার কাছে মন খুলে দুটো কথা বলা যায়, দাসত্বের দেয়াল ভেদ করে প্রাণের সখী ভাবা যায়। সেই আমিনার পুত্র সন্তান হয়েছে… আজ সুআইবার চেয়ে আনন্দিত হবে এমন আর কে আছে?!

শুধুই কি সুআইবাহ? আমিনাপুত্রের জন্মগ্রহণে কাছে দূরের সবাই উল্লসিত। কারণ এ যে আব্দুল্লাহ’র বংশধর! যার মৃত্যুর সংবাদ শুনার পর তারা বড্ড উদ্বিগ্ন ছিল, আব্দুল্লাহ’র বংশপ্রবাহধারী এই সন্তানের আশায় বসে ছিলো তারা!

সুআইবাহকে দৌড়ে আসতে দেখে নড়েচড়ে বসলো আবু লাহাব। নিজের দাসীকে এভাবে আগে কখনও দৌড়াতে দেখেনি সে। অজানা এক কারণে স্নায়ুবিক চাপ অনুভব করতে লাগলো। সুআইবাহ এসে যেই না আব্দুল্লাহ’র পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণের সুসংবাদ দিলো, নিজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারালো আবু লাহাব! আনন্দের অতিশয্যে বলে বসলো- সুআইবাহ! এই সংবাদ বহন করে আনার বিনিময়ে আমি তোমাকে মুক্ত করে দিলাম।[12]

কী অনুপম কৌশলে আল্লাহ সুআইবাহকে আবু লাহাবের মালিকানা থেকে মুক্ত করে শিশু মুহাম্মদের দুধ মা হওয়ার জন্য নির্বাচিত করে নিলেন! যাতে করে মুহাম্মদের লালন পালনে কারো অবদান আছে বলে ভবিষ্যতের কোন খলনায়ক দাবী করে বসতে না পারে।[13] রোমাঞ্চিত সুআইবাহ উড়ন্ত চিলের মত ফিরতি পথ ধরলো। সে এখন এক স্বাধীন মুক্ত বিহঙ্গ!

আমিনার হাত থেকে চাঁদের টুকরোকে কোলে তুলে নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে গেলেন আব্দুল মুত্তলিব। সেই শিশু আব্দুল্লাহ, যে প্রিয় পুত্রের জন্য ১০০ উট কোরবানি দিয়েছিলেন। পরম আদরে বড়ো করেছেন। বিয়ে দিয়েছেন… এরপর…  তাঁর চোখে এখনও ভাসছে শেষবার বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে মক্কা ছেড়ে যাওয়ার সময় পুত্রকে দেয়া শেষ বিদায়। তিনিই তাকে পাঠিয়েছিলেন গেল মৌসুমের খেজুরের চালান নিয়ে আসতে।[14] কিন্তু…২৫ বছরের টগবগে যুবক ছেলেটি তার কী এক অজানা অসুখে মারা গেলো।[15] এ কি সব ভাবছে আব্দুল মুত্তলিব? আজ এমন খুশির দিনে? প্রাণপ্রিয় সন্তানের একমাত্র বংশধরের দিকে তাকিয়ে যেন আব্দুল্লাহকেই খুঁজতে লাগলেন তিনি।

আলতো করে চুমু খেয়ে আব্দুল্লাহ’র শিশুপুত্রকে আরেকটু বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে এসব ভাবছিলেন আব্দুল মুত্তলিব। আমিনার কথায় সম্বিৎ ফিরলো। আমিনাকে বলতে শুনলেনঃ আমাকে স্বপ্নে ওর নাম মুহাম্মদ ও আহমদ রাখতে বলা হয়েছে। একথা শুনে মোটেও অবাক হলেন না আব্দুল মুত্তলিব। এত এত নাম থাকতে তিনি তাঁর কনিষ্ঠ ছেলের নাম রেখেছিলেন আব্দুল্লাহ; আল্লাহর গোলাম। এর পিছনে গায়েবী ইশারা না থেকে যায়না। শত উষ্ট্রী কোরবানীর বিনিময়ে পাওয়া সন্তানের পুত্রের নামও যে এমন আনকোরা হবে, স্বপ্নে পাওয়া হবে- এটাই তো স্বাভাবিক। তিনি সায় দিয়ে বললেনঃ হ্যাঁ, ওর নাম রাখলাম মুহাম্মদ ও আহমদ। একটি উপস্থিত ছড়াও গাইলেন, যার শেষ পঙক্তি ছিলো- মানুষের মুখে মুখে রটে যাবে আহমদ নামটি।[16]

সপ্তম দিনে মুহাম্মদের খৎনা করালেন আব্দুল মুত্তলিব, একটি চমৎকার ভোজের আয়োজনও করলেন।[17] আনুষ্ঠানিকভাবে নাম রাখলেন- মুহাম্মদ। কয়েকজন বললঃ আমাদের বংশীয় রীতি ভেঙ্গে ভিন্নরকম নাম রাখছো যে? উত্তরে তিনি বললেনঃ আমি চাই আসমানে স্রষ্টা তাঁর প্রশংসা করুক, আর জমিনে লোকে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হোক।[18]

তিন তিনজন কুরাইশী মায়ের কোলে মুহাম্মদ লালিত পালিত হচ্ছেন, নিজের মা আমিনা ও দুই দুধমা সুআইবাহ ও উম্মে আইমান। উম্মে আইমান অবশ্য আমিনার দাসী।[19] পরম আদরে বড় হচ্ছে অনাগত সকল এতীমদের সর্দার মুহাম্মদ। এই দুই দুধমার মাধ্যমে ছোট্ট মুহাম্মদের আত্মীয়তার অদৃশ্য অন্তর্জাল বিস্তার লাভ করতে শুরু করেছে মানচিত্রের মত। এর আগেও সুআইবাহ মুহাম্মদের চাচা হামযা ও আবু সালামার দুধমা হয়েছিলেন।[20] অল্প কিছুদিনের মধ্যে আরো বিস্তৃত বন্ধনের রঙ ছড়াতে পিচ্চি মুহাম্মদ চলে যাবে গ্রামীণ পরিবেশে। যেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছে ভাষার বিশুদ্ধতা,  স্বাস্থ্য-ক্বলবের পরিশুদ্ধতা সহ আরো অনেক কল্পনাতীত ঘটনা।


[1] সে সময় আরবে রবিউল আওয়ালের শুরুতে খেজুরে মুকুল আসতে শুরু করতো। যা রমজানের আগে-পরে পরিপক্ক হতো ও বাজারে তুলা হতো। রবিউল আওয়ালে আরব অঞ্চলে দিনে নাতিশীতোষ্ণ ও রাতে প্রশান্ত পরিবেশ বিরাজ করে।

[2] সহীহ মুসলিমঃ ২/৮১৯-৮২০। উক্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন তিনি সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছেন তাই তিনি সোমবারে রোজা রাখেন। রিআসাতু ইদারাতিল বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা ওয়াদ-দাওয়া ওয়াল ইরশাদ প্রকাশনী (১৪০০ হিজরী/১৯৮০ ঈসায়ী) সংস্করণ।
সিরাতে ইবনে হিশাম ও ইবনে ইসহাকের মতে দিনটি ১২ রবিউল আওয়াল (ইবনে হিশামঃ ১/১৭১), সে হিসেবে এটি তৃতীয় সোমবার হবে । আর জ্যোতর্বিজ্ঞানী মাহমুদ পাশার হিসেব মতে দিনটি রবিউল আওয়ালের নয় তারিখ ছিলো। সেমতে এটি ছিলো ২য় সোমবার (মুহাদ্বারাত তারিখুল উমামিল ইসলামিয়্যাহ, হাজারী বেগ, ১/৬২।

[3] তারিখুল ইসলাম- সিরাত, ইমাম যাহাবী, পৃষ্ঠা-২২। ইবনে হিশামঃ ১/২১১। উল্লেখিত বর্ণনা প্রমাণ করে, রাসুলুল্লাহ হস্তীবাহিনী ধ্বংসের বছরেই জন্মগ্রহণ করেন।

[4] আমরা মতভেদের হিসেব এড়িয়ে একটি নিরপেক্ষ ও নিখুঁত হিসেব প্রচলনের লক্ষ্যে বলেছি, রবিউল আওয়ালের দ্বিতীয় কি তৃতীয় সোমবার। অন্যদিকে জন্মসাল নিয়েও নানান মত প্রচার আছে। যেমন আমুল ফিল বা হস্তী বছরের কথা যেমন আছে আবার এরপরের বছরের কথাও আছে। অন্যদিকে এর ঈসায়ী হিসাবেও ৫৭০/৫৭১/৫৭২ সালের কথা আছে। এক্ষেত্রে আমার মতে, সবচেয়ে নিরাপদ হলো আমরা যদি রাসূলুল্লাহ’র নবুয়তের বছরকে কিংবা হিজরতের বছরকে কেন্দ্রবিন্দু ধরে পিছনদিকে তাঁর জন্মসাল নির্ধারণ করি, যেমনটা খৃষ্টপূর্বের হিসাব করা হয়ে থাকে, তাহলে রাসূলুল্লাহর জন্মসাল দাঁড়ায় হিজরীপূর্ব ৫৩ তম বছরে। কিংবা নবুয়তপূর্ব ৪০ তম বছরে। এ বিষয়ে ২০১৩ সালের দিকেই আমি একটি ইসলামী পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখেছিলাম। সম্প্রতি মিশরের ইফতাবোর্ডের মুফতি ড. শওকি ইবরাহীম আল্লামের একটি প্রবন্ধ দেখেছি যেখানে তিনিও এইভাবে হিসাবের কথা বলেছেন।

[5] দালাইলুন নুবুওয়্যাহঃ ১/৩৬-৩৭।

[6] ইবনে হিশামঃ ১/২১০।

[7] রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন- আমি আমার জাতির পিতা ইবরাহীমের (আ) দোয়ার ফসল, এবং ঈসার (আ) সুসংবাদ। (মুসনাদ আহমদঃ ৪/১২৭)।

[8] রাসূলুল্লাহ বলছেন, আমার মা আমার জন্মের সময় একটি আলো দেখেছেন যা শামের পথে ছুটে গিয়েছে, এর আলোয় বসরার প্রাসাদগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো। (মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ২/২১৬)।

[9] সোমবার ঊষালগ্নে রাসূলুল্লাহর জন্ম হয়। বনু হাশেমের মহল্লার আবু তালেবের বাড়ীতে তাঁর জন্ম হয়। দেখুনঃ নুরুল ইয়াক্বীন ফি সিরাতি সায়্যিদিল মুরসালিন, পৃষ্ঠাঃ ৯। রহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠাঃ ৪১।

তারিখে দামেশক, ইবনে আসাকির ৩/৭০ (দারুল ফিকির প্রকাশন) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) ফজরের সময় জন্মগ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত, কুরাইশ নেতাদেরকে আব্দুল মুত্তলিব সেদিন নাতির জন্মের সুসংবাদ দেয়ার প্রাক্কালে উল্লেখ করেন- “গতরাতে উষালগ্নে আমাদের বংশে নতুন অতিথি এসেছে”।

[10] আব্দুল মত্তলিবের হাতে ছিলো মক্কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। হাজীদের আতিথেয়তা ও পানি পান করানোর কাজ ছিলো তাঁর তত্ত্বাবধানে। (আস-সিরাহ আন-নাবাউইয়্যাহ আলা দ্বউইল মাসাদিরিল আসালিয়্যাহ, পৃষ্ঠা- ১১২)

[11] ড. রমজান আল-বুতী তাঁর ফিকহুর সীরাহ’তে এ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন। আল্লাহ তাঁর রাসূলের জন্মের সময় থেকেই পিতার নিবিড় তত্বাবধান, মায়ের দীর্ঘস্থায়ী যত্ন ও গোত্রপ্রধান দাদার দেখভালের সাথে উল্লেখ করার মত স্থায়িত্ব নির্ধারণ করেননি। যাতে করে বিরুদ্ধবাদীরা পরবর্তীতে এমন অভিযোগ আনতে না পারে যে তিনি উক্ত ব্যক্তিদের প্রভাব ও প্ররোচনায় শৈশব থেকেই নবুয়তের স্বপ্ন দেখে বড় হয়েছেন। আরো জানতে পড়ুন ফিকহুস সিরাহ, পৃষ্ঠাঃ ৫০-৫১।

[12] সহিহ বুখারী ৬/১২৫ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য। সহিহ মুসলিম ২/১০৭২ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

[13] সিরাতের মৌলিক কিছু গ্রন্থে সুআইবার মুক্তির ঘটনা বলা হয়েছে আর বছর দশেক পরে। কিন্তু বুখারীর বর্ণনামতে, রাসূলের জন্মের পরপরই আবু লাহাব তাকে মুক্ত করে দেন বলে জানা যায়। যারা এ মতটিকে বিভিন্ন কারণ দর্শিয়ে অগ্রহণযোগ্য বলার দাবি করেন তাঁদের দৃষ্টি থেকে হয়তো এ বিষয়টি এড়িয়ে গেছে যে, আল্লাহর প্রজ্ঞা ছিলো যেন আবু লাহাবের মালিকানায় থাকাকালীন সুআইবাহ যেন রাসূলের দুধমাতা না হন। যাতে করে আবু লাহাব কখনও খোটা দিতে না পারে।

[14] ইস্তিআব, ইবনে আব্দুল বার, ১/১৪। ইবনে সা’দ, ১/৯৯।

[15] তারিখুল মদীনা, উমর ইবনে শাইহ, ১/১১৬-১১৭। উমদাতুল আখবার- ১৬৭। তাবাকাতে ইবনে সা’দঃ ১/৭৯।

[16] তারিখে দামেশঃ ১/৪০৪।

[17] ইবনে সা’দঃ ১/১০৩। তারিখুল ইসলাম-সিরাত, ইমাম যাহাবীঃ পৃষ্ঠা-২৭। ইমাম যাহাবী এই মতটিকে সর্বাধিক সঠিক বলেছেন।

[18] ফাতহুল বারি, ইবনে হাজরঃ ১৫/৩।

[19] সশি মুসলিমের ১৭৭২ নং হাদিস অনুযায়ী উম্মে আইমান ছিলেন হাবশার বাসিন্দা। পরে আমিনার কাজে সহায়তার জন্য তাঁকে রাখা হয়। তিনি শৈশব থেকে রাসূলুল্লাহ’র লালন পালনে দায়িত্বরত ছিলেন।

[20] সহিহ বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, ৬/১২৫।

Share this article

Leave a Reply

Your email address will not be published.