রহস্যময় হাদিস ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি

Share this article
রহস্যময় হাদিসে রাসূল (সা) বলেন-

“যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, কেয়ামত সংঘটিত হবে তখনই যখন একটি সময় আসবে বন্য প্রাণী/পাখিরা মানুষের সাথে কথা বলবে। চাবুকের হাতল ও জুতার ফিতা ব্যক্তির সাথে কথা বলবে। বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ব্যক্তির পরিবার সম্পর্কে তার উরু সংবাদ দিবে।“

[ তিরমিযি ২১৮১, আহমদ- ৩:৮২, হাকেম- ৪:৪৬৭, বিদায়া নিহায়া- কিয়ামতের আলামত অধ্যায় পৃষ্ঠা ১৮৩ ]

হাদীসটির সাথে আরো কিছু বর্ণনা আছে যেখানে ‘চাবুকের হাতল’ এর সাথে ‘ছড়ির হাতল’ও কথা বলবে বলে যোগ করা হয়েছে।

প্রশ্ন হলো, হাদীসটির উল্লেখিত ঘটনাগুলো কী রূপক নাকি আক্ষরিক অর্থেই ঘটবে? যেমন, অনেক আধুনিক স্কলারগণ হাদীসটির ‘জুতার ফিতাকে’ বর্তমানের হেডফোন বা মাউথপীস এর রূপক বলে মনে করেন। আবার চাবুকের হাতল দ্বারা ‘মোবাইল’ মনে করেন যেহেতু আকারের দিক থেকে এবং ব্যবহারের আধিক্যের দিক থেকে সাদৃশ্য আছে। একজন লাঠিওয়ালা বা চাবুকওয়ালা যেমন এর হাতল সবসময় হাতেই রাখে বর্তমান মোবাইলও আমরা এমনভাবেই ধরে রাখি, আবার এটা আমাদের সাথে কথাও বলবে বলছে। ‘ব্যক্তির উরু’ প্রসঙ্গটিও এই ধারণা দিচ্ছে যে আমাদের মোবাইল যেভাবে প্রায়শই পকেটে রাখি আবার তা আমাদের পরিবার সম্পর্কে জানতে ব্যবহিত হচ্ছে।

মোবাইল আবিষ্কারের আগে চাবুক দ্বারা রেডিওর এন্টেনা, পরে টেলিফোন আসার পর টেলিফোনের তার বলে ব্যাখ্যা করা হতো। এবং চাবুকের ঝাকুনীতে যে ওয়েভ বা ইথার সৃষ্টি হয় তার সাথেও সম্পর্ক আছে বলে অনেকেই মন্তব্য করতেন। এ বিষয়ে আরেকটু পরিষ্কার হাদীসে নবীজি (স) আবু হুরাইরাহ (রা) কে বলছেন- “তুমি ঐদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকলে দেখবে কিছু মানুষ ঘর থেকে বের হবে আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে আবার ঘরে ফিরবে আল্লাহর অভিশাপ নিয়ে, অদের হাতে থাকবে ষাড়ের লেজের মত চাবুক।”

এই চাবুক সাদৃশ্যতা রাখে মাইক্রোফোন, মোবাইল, রেডিও ইত্যাদির সাথে।

আবার অনেকেই অনুমান করেছিলেন যে, যেহেতু হাদীসে জুতার কথা বলা হচ্ছে যা আমরা পথ চলতে ব্যবহার করি। সুতরাং জুতা আমাদের সাথে তথ্য আদান প্রদান করা বলতে হয়তো জিপিএস সম্পর্কে হাদীসে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। আর ‘বন্য পশু/পাখি’ থেকে অনেকেই মনে করেন সিসিটিভি, স্যাটেলাইট, মনিটরিং ইত্যাদি। কারণ, হাদীসের ভাষ্য বুঝাচ্ছে, এই “প্রাণী” শিকারী মনোভাবের হবে, এবং এরা মানুষকে বিভিন্ন তথ্য জানাবে। স্কলাররা বলতে চাইছেন, আমাদের মাথার উপর ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি বা স্যাটেলাইটগুলো শিকারী চোখ মেলে পর্যবেক্ষণ করছে। আবার এসব তথ্য নির্ধারিত মানুষদেরকে সময়মতো জানিয়েও দিচ্ছে।

তবে হাদীসবেত্তাগণ বলেছেন, আক্ষরিক অর্থেই এমন ঘটনা কেয়ামতের পূর্বে অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে প্রায় ঘটতে দেখা যাবে এটা স্পষ্ট। তবে যদি টেকনোলোজির কারণে সত্যিকারের জুতা বা লাঠি একই ভূমিকা রাখতে দেখা যায় তাও হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী ধর্তব্য হবে।

NEW YORK TIMES এ ২০০৬ সালের ১ নভেম্বর ‘THESE SHOES ARE MADE FOR TALKING’ শিরোনামে একটি আর্টিকেল ছাপানো হয় যেখানে ‘নাইকি’ কোম্পানীর সদ্য আবিষ্কৃত জুতা নিয়ে প্রতিবেদন ছিল। এই জুতা (ছবিতে দেখুন) আক্ষরিক অর্থেই আপনার সাথে কথা বলবে। তথ্য প্রদান করবে, জিপিএস সহ নানান ফিচার থাকবে। এরপর গুগলও এই রকমের স্মার্টশু বের করে।

১৯৮৩ সালে ‘থিফোন’ নামের এক রকমের বেল্ট বা ফোন হোল্ডার আবিষ্কৃত হয় যা উরুতে বেধে তাতে মোবাইল রেখে ব্যবহার করা যায় (ছবিতে দেখুন)। হয়তো এটা উরুর কথা বলার আক্ষরিক প্রমাণ নয়, তবে এ থেকে বুঝতে পারা যায় সামনে আরো এমন কিছু আসবে যা সরাসরি উরুর মাংসে ফিট করা যাবে।

এলইডি ডিসপ্লে সমেত এক প্রকারের লাঠি ‘ফুজিতসু’ কোম্পানী ২০১৩ সালে বাজারে আনে, যাকে স্মার্ট-স্টিক বলা হচ্ছে (ছবিতে দেখুন)। জিপিএস, ওয়াইফাই সহ ভার্চুয়াল সব রকমের ফ্যাসিলিটি সমৃদ্ধ এই লাঠিই কি হাদীসের সেই ‘কথা বলা চাবুক বা ছড়ি’??!

আর যাই হোক, হাদীসটি আমাদের অন্তত এতটুকু শিক্ষা দিচ্ছে যে, শেষ জমানায় অত্যন্ত সতর্কভাবে চলাফেরা করা উচিত। আপনি আপনার দুটি চোখ দিয়ে অনেক কিছুই দেখছেন, কিন্তু অসংখ্য অগণিত অদৃশ্য চোখ আপনাকে যে ফলো করছে তা মাথায় রাখুন। এবং আপনার চলাফেরার প্রতিটি পদক্ষেপ নির্ধারিত দায়িত্বশীলদের কাছে পৌছে যাচ্ছে। অতএব, সাবধান !!

আরেকটি রহস্যময় হাদিস নিয়ে পড়ুন এই আর্টিক্যালে

Share this article

One comment

Leave a Reply

AllEscort