রাসূলের সাথে আখিরাতে -1

Share this article
রাসূলের সাথে আখিরাতে

মহাজাগতিক নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে ভেসে উঠলো আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুত সেই প্রশ্ন- ‘লিমানিল মুলকুল ইয়াওম? (বলো- আজ রাজত্ব কার?)

কিন্তু বিশ্বভ্রম্মাণ্ড জুড়ে এমনকি একটি অনুজীবও বেঁচে নেই এ প্রশ্নের উত্তর দিবে। অতঃপর উত্তরটাও আসলো আল্লাহর পক্ষ থেকে- ‘রাজত্ব আজ একমাত্র পরাক্রমশালী আল্লাহর’।

এরপর কতকাল কিভাবে কেটে যাবে কেউ জানিনা, রাসূলুল্লাহ (স) খুব রহস্য করে বলতেন-এরপর “চল্লিশ” অতিবাহিত হবে। আবু হুরায়রাকে (রাঃ) লোকে জিজ্ঞেস করলো- চল্লিশ দিন? আবু হুরায়রা (রাঃ) নাকচ করে দিলেন। তাহলে কি চল্লিশ মাস? তাও না। তবে কি চল্লিশ বছর? আবু হুরায়রা এটাও না করে দিলেন। উত্তরটা অজানাই থাক, অজানা থাকলেই রহস্যের আবেদন জিইয়ে থাকে।

এক সময় ইসরাফিল (আঃ) পুনরুত্থিত হলেন। শিঙ্গাটা আগের মতোই আছে, যে শিঙ্গায় ফুঁক দিয়ে সৃষ্টিকূল একবার মিসমার করা হয়েছে। আল্লাহর নির্দেশে আবার শিঙ্গা হাতে তুলে নিয়ে ঝড় তুললেন। পৃথিবীজুড়ে বয়ে যাবে মৃদু বৃষ্টির অমিয় ধারা। অনেক অনেক কাল আগে এরকম বৃষ্টির পর শুষ্ক ভূমি ফুঁড়ে অঙ্কুর হতো সবুজ তৃণের। আজ এই বৃষ্টির পর ভূগর্ভস্থ মানুষদের মেরুদণ্ডের অবশিষ্ট হাড় থেকে মানবজাতির অঙ্কুর হতে লাগলো। শুরু হলো মানবজাতির চূড়ান্ত যাত্রা। পিলপিল করে মানুষ কবর ফুঁড়ে গায়ের কাফনেই বের হয়ে আসছে।

সর্বপ্রথম যে কবরটি উন্মোচিত হবে তা মুহাম্মদ (স) এর। গায়ের মাটি ঝারতে ঝারতে তিনি উঠে বসবেন, তারপর চারপাশে তাকিয়ে বুঝে নিবেন হাশরের পর্ব শুরু হয়ে গেছে। তার পিছু পিছু একে একে সমস্ত মানুষ অঙ্কুরিত হতে থাকবে।

ইতিমধ্যেই জমিন তার গর্ভস্থ সমস্ত মানবদেহকে উগরে দিয়েছে। প্রথমে সবাই প্রজাপতির মতো ছন্নছাড়া দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করলো। এরপর ফেরশতাদের ঘোষণা শুনে সারিবদ্ধ পঙ্গপালের মতো তারা ছুটলো কোন এক অজানা গন্তব্যে। কারো গায়ের কাফন খসে খসে পড়ছে, কারো সবটা ইতিমধ্যেই খসে গেছে। সবাই খালি পায়ে ছুটছে। ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জনস্রোত, অথচ প্রত্যেকেই কত একা!! পাশের জনের দিকে তাকানোর ফুরসৎ নেই। আশ্চর্য্যের ব্যাপার হলো- মানুষগুলোর কারো আকার স্বাভাবিক, কারো আকার একেবারে বালুকণা সমান। দেখতে মানুষ কিন্তু আকারে বালুকণা! এরাই তারা, নিজেদের বড়ত্বে যাদের মাটিতে পা পড়তো না! আজ জনস্রোতে পদদলিত হয়ে তারা ছুটছে।

এদিকে বিচারের ময়দান সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা হয়েছে। আগের সেই পৃথিবী নেই। দু চোখের পথ জুড়ে নেই কোন দৃশ্যমান কাঠামো। সোজা-সমান্তরাল উন্মুক্ত ময়দান পানে ছুটছে মানবস্রোত, অদ্ভুতভাবে সেই স্রোতে মিশে আছে পশুপাখির পাল। তারাও ছুটছে। ভয়ের আকস্মিকতায় কেউ কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। মানুষ-পশুপাখি দলে দলে ফেরেশতাদের পিছু পিছু এগোচ্ছে হাশরের আদালত পানে। কিন্তু এই বিশাল মানবস্রোত তরঙ্গায়িত হচ্ছে সম্পূর্ন নিঃশব্দে, নিস্তব্ধতায়।

হাশরের ময়দানে পৌঁছতে পৌঁছতে কারো গায়েই আর কোন বস্ত্র অবশিষ্ট থাকলনা। সেখানে আমল অনুযায়ী বস্ত্র পরিধান করানো হবে। সর্বপ্রথম দেহ আবৃত করা হবে ইবরাহীম (আ) এর। ততক্ষণে পাপ-পুণ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী দলে দলে ভাগ করে ফেলা হবে মানুষগুলোকে। কোনরকম দুটি পা রেখে দাঁড়িয়ে থাকার মত জায়গার সংকুলান হবে।

হাশরের নতুন পর্বে সূর্য নেমে আসবে মাথার কাছে, মানুষের ভীড়ের তাপ, সূর্যের তাপ সব মিলিয়ে মুহুর্তেই সত্তর হাত ঘামের সাগরে সবাই হাবুডুবু খেতে থাকবে। এ তো গেলো সর্বনিমস্তরের ঘাম। কাফেরদের জন্য এই ঘামের ঢেউ নাক-কান পর্যন্ত পৌঁছাবে। কোথাও এক চিলতে ছায়া নেই একমাত্র আল্লাহর আরশের পবিত্র ছায়া ছাড়া, যার নীচে অবস্থান নিয়েছেন সেই সাত শ্রেণীর সৌভাগ্যবানরা। যাদের নেতৃত্বে আছেন নবী-রাসূল ও সালেহীনগণ।

এই অসহ্য তাপের উপর আরেক মাত্রার তাপ যুক্ত করা হবে। সত্তর হাজার শেকলে বেধে সত্তর হাজার ফেরেশতা টেনে টেনে উপস্থিত করবে জাহান্নামকে। জাহান্নামের তীব্র তাপ হাশরের ময়দানে যোগ করবে নতুন মাত্রা। নাভিশ্বাসের চরম পর্যায়ে আজ মানবজাতি।

হঠাৎ একটা শোরগোল শোনা গেলো- মুহাম্মদ কোথায়? (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

(পড়ুন পর্ব-২)

সাঈদুল মোস্তফা

Share this article

One comment

Leave a Reply