রাসূলের সাথে আখিরাতে -4

Share this article
রাসূলের সাথে আখিরাতে কেমন হবে আমাদের জীবন।

ভয়াবহ রণক্ষেত্রের দৃশ্য ধারণ করেছে আখিরাতের মাঠ। সারিবদ্ধ ফেরেশতাদের টহল আর ভীতিকর নিস্তব্ধতা আরো জেঁকে বসেছে। ইতোমধ্যেই বিনা হিসেবে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছে উম্মতে মুহাম্মদির অগুনিত মানুষ। তাঁদের মধ্যে যারা শহীদ, সত্যিকারের উলামা-হুফফাজ তাঁরা পুলসিরাতের কিনারে মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অপেক্ষা করছেন। তাঁদের আত্মীয় পরিজন পরিচিতদের মধ্যে যারা দুর্ভাগ্য বরণ করবে তাদের জন্য সুপারিশ করতে। আল্লাহর অনুগ্রহে তাদেরকে হিসাব-নিকাশের মুখোমুখিই হতে হয়নি। আরো যারা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছিলো, তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করেছিলো, কোনো গণক-জাদুকরের কাছে যায়নি তারাও এই ভাগ্যবানদের অন্তর্ভূক্ত হবে।

অনুরূপ পাপিষ্ঠ কাফেরদের জন্যেও বিনা বিচারে জাহান্নামের ফায়সালা হয়ে গিয়েছে। ফেরেশতারা এসে তাদেরকে পাকড়াও করে আপন ঠিকানায় নিয়ে যাচ্ছে। ততক্ষণ পর্যন্ত নড়াচড়ার কোনো সামর্থ্য নেই তাদের। কাউকে মুখ থুবড়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কাউকে চুলের মুঠি ধরে আবার কাউকে শিকলে বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের চোখের সামনেই পশু-পাখিদের বদলা নেয়া হচ্ছে। দুনিয়াতে যে প্রাণী অন্য প্রাণীকে বিনা কারণে আঘাত করেছে তার সমান বদলা ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এরপর সাথে সাথেই তারা মাটিতে মিলিয়ে যাচ্ছে। এ দেখে কাফেরদের হাহাকার আরো বেড়ে গেলো- হায়! আমিও যদি মাটি হয়ে যেতে পারতাম!

সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে একটি আরজি জানালেন। তাঁর প্রিয় চাচা আবু তালিবের লঘু শাস্তির আবেদন। প্রিয় হাবিবের একান্ত সুপারিশ রক্ষা করে আল্লাহ জানালেন, আবু তালিবকে সর্বনিম্ন শাস্তি স্বরূপ শুধুমাত্র আগুনের জুতা পরানো হবে; কিন্তু এতেও তার মাথার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে। ইব্রাহিম আলাইহিস সালামও তাঁর পিতার জন্যে সুপারিশ করতে চাইলেন, কিন্তু তাঁর পিতা আজরকে এমন এক বিকৃত রুপে হাজির করা হলো যা দেখে তিনি সুপারিশের আগ্রহ হারিয়ে ফেললেন।

হাশরের একপাশে পর্দা ঝুলিয়ে কিছু মানুষের রুদ্ধদ্বার বিচারকার্য চলছে। তাদের সামনে আমলনামা উপস্থাপন করে জিজ্ঞেস করা হলো- যা দেখতে পাচ্ছ তা কি স্বীকার করো? তারা বললো- ইয়া আল্লাহ! আমরা স্বীকার করছি যে এইসব ভুলভ্রান্তি আমরা করেছি। আল্লাহ বললেন- পৃথিবীতে যেভাবে এসব আমি সবার সামনে গোপন রেখেছিলাম, আজোও গোপন রাখলাম, কারন তোমরাও মানুষের দোষ গোপন রাখতে। আর তোমাদেরকেও জান্নাত দিয়ে দিলাম।

এদের মধ্যে কিছু লোক আবার পাপ অস্বীকার করে বসলো, তাদেরকে উন্মুক্ত প্রান্তরে নিয়ে আসা হলো। যেখানে আরো অনেকের আমলনামার চুলচেরা হিসেব-নিকেশ চলছে। মিজানের নিক্তিতে মানুষের আমল তন্ন তন্ন করে মাপা হচ্ছে, যাদের পাপ-পুণ্য সমান হচ্ছে তাদেরকে আলাদা করা হচ্ছে। যাদের পাপের পাল্লা ভারি তাদের জন্য পুণ্যের অজুহাত খোঁজা হচ্ছে। যেকোনো ছুতোয় আমলনামা ডান হাতে দেয়ার প্রচেষ্টা প্রক্রিয়াধীন।

অনুমাত্র সওয়াবের উচ্ছিষ্টের আশায় মানুষগুলো ছুটোছুটি করছে। আমলনামা হাতড়ে দেখছে এমন কেউ আছে কিনা যার থেকে সে কিছু না কিছু হক পেতে পারে; হোক সে তার আপনজন কিংবা সুহৃদ বন্ধু। এমন ভাবতে না ভাবতেই তাকেই ঘিরে ধরলো একদল পাওনাদার। এভাবেই চলতে থাকলো ভাঙাগড়ার যোগ-বিয়োগ। আফসোস সেই দিনের, যেদিন আপনজনের আমলগুলো হাতিয়ে নেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকলোনা। আজ সওয়াব ছাড়া অন্য সব মুদ্রাই অচল!

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কেউ আমলনামা ডানহাতে আর কেউ বামহাতে নিয়ে এগিয়ে চলেছে পুলসিরাতের দিকে। কান্নাবিজড়িত সবার মনেই অজানা আশঙ্কা। ডানপন্থীরাও নিশ্চিত নয় সামনের পথে কি ঘটতে যাচ্ছে। পুলসিরাতের গোড়ায় অপেক্ষা করছেন তাদের নবী ও রাসুলগণ। আমলনামা হাতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁরা সেদিকে পা চালালো…

ফেসবুকে পড়ুন এই লিঙ্কে

পর্ব তিন পড়ুন এই লিঙ্কে

Share this article
AllEscort