রাসূলের সাথে আখেরাতে- 7

Share this article
আখেরাতের নবী || গল্পসিরাত || অন্যরকম সিরাত || সাঈদুল মোস্তফা
রাসূলের সাথে আখেরাতে আমাদের জীবনটা কেমন হবে? আসুন পড়ি ৭ম পর্ব

মিলনায়তনের মত এই জায়গাটা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে। জান্নাতের একেবারে সম্মুখেই, আর পুলসিরাতের পরপর। মু’মিন নর-নারীরা সমবেত হয়েছেন নবী-রাসূলদের সাথে। এখানে বিনা হিসাবে পরিত্রাণ পাওয়া মানুষ আছে, আছে জ্বীন। বিচারের মুখোমুখি হয়ে আসা ব্যক্তিরাও আছেন। আছেন মাত্রই ক্ষতবিক্ষত হয়ে পুলসিরাত পাড়ি দেয়া মানুষরা। আজ এখানে যারা পৌঁছতে পেরেছেন তাঁদের সবার উপর আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট ছিলেন। এর পিছনে তাঁদের কোনো অবদানই ছিলো না। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিই তাঁদেরকে এখানে এনেছে। সবাই প্রতীক্ষায় আছে না জানি কি হবে এখন? থমথমে পরিস্থিতে তাঁরা দেখলেন ফেরেশতারা আবারো তাঁদের আমলনামা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন।

হাশরের সময়টা কেবল ন্যায়বিচারের। সবকিছু অগ্রাহ্য সম্ভব হলেও জুলুম ও অন্যায়ের প্রশ্রয় দেয়া হয়নি মোটেও। প্রথম বিচারের সময় মুমিন, কাফের এমনকি পশুপাখি নির্বিশেষে সকলের হক ও অধিকার কাটাকাটি দিয়ে ফায়সালা করা হয়েছে। কিন্তু এই পাটাতনে উপস্থিত অনেকের মধ্যেই রয়ে গেছে দুনিয়াবী কিছু দেনা-পাওনা। অন্তরের নানান রাগ, ক্ষোভ, ইর্ষা, অসন্তুষ্টি ইত্যাদি। কেউ হয়তো দুনিয়াতে কোনো বিচারের মুখোমুখি হয়ে বিচারকের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য হয়েছিলো, কিন্তু অন্তর থেকে মেনে নিতে পারেনি। বিবাদি ও বিচারকের উপর রাগান্বিত ছিলো। আজ এখন এ ধরণের মনকষাকষির নিষ্পত্তি করা হবে। কারণ জান্নাতে এসবের স্থান নেই।

শুরু হলো পারষ্পরিক বোঝাপড়ার বিচারিক প্রক্রিয়া। শহীদ, সিদ্দিকীনরাও এতে শামিল। তবে এখানে আমল দিয়ে দেয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। কিংবা অন্যের পাপ বহন করে প্রায়শ্চিত্য করার দরকার নেই। তবে জান্নাতের সুযোগ সুবিধা হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব বিষয়ের ভারসাম্য করা হচ্ছে। কেউ নিজ থেকেই ক্ষমা করে দিচ্ছেন, কেউ বিচারপ্রক্রিয়ার উপরই সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিচ্ছেন। এখনও সবাই নিজ নিজ চিন্তায় মশগুল যেন। জান্নাতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই নেই। আপন ভাই বন্ধু পরিবার পরিজনের কথা ভাবা তো দূরের বিষয়!

এক সময় মনের টানাপড়েন শেষ হলো। প্রতিটি হৃদয় এখন নিষ্পাপ, নির্মল। এটাই তো আল্লাহ বলেছিলেনঃ “তাদের অন্তরে যে ক্রোধ ছিল, আমি তা দূর করে দেব। তারা ভাই-ভাইয়ের মত সামনা-সামনি আসনে বসবে।“ জান্নাত প্রত্যাশীর বিশাল কাফেলা সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে উম্মতে মুহাম্মদির শুধু বিনা হিসেবে প্রবেশকারীর সংখ্যাই আছে সত্তর হাজার। আবার প্রতি হাজারের তত্ত্বাবধানে আছেন আরো সত্তর হাজার করে। সমগ্র জান্নাতপ্রত্যাশীর দুই তৃতীয়াংশই মুহাম্মদ (সঃ) এর উম্মত। মুহাম্মদ (সঃ) এর হাতে শোভা পাচ্ছে “প্রশংসার পতাকা”। এ কারণেই উনার নাম ‘হাশির’, যার পেছনে মানবজাতি সমবেত হবে। উনার দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে এতীমের দায়িত্ব নেয়া মানুষগুলো আর উত্তম চরিত্রের ব্যক্তিগণ।

ফেরেশতারা নিজ নিজ স্থানে ফিরে গেলেন। জান্নাতের সিংহদ্বারে তাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন অভ্যর্থনা জানাতে। জান্নাতের সর্বডানের দরজা দিয়ে সর্বপ্রথম প্রবেশ করবেন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর উম্মতকে নিয়ে। সবাই অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে জান্নাত উদ্বোধন হবে মুহাম্মদ (সঃ) এর হাতে। ইতিমধ্যেই কিছু লোক জান্নাতের দরজায় গিয়ে ফিরে এসেছে। রাসূলুল্লাহর কাছে এসে তারা সুপারিশের আবেদন করলো, যেন জান্নাত খুলে দেয়া হয়। মুহাম্মদ (সঃ) এবার তাঁর উম্মতকে নিয়ে জান্নাতের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন। টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে সবার মধ্যে। এই কী সেই অন্তিম মুহুর্ত যার জন্যে এতো আয়োজন?! এই নতুন শাশ্বত জীবনে কী অপেক্ষা করছে তাঁদের জন্য? অত্যাসন্ন এই জগতে কী আছে? যা কখনও কোনো চোখ দেখতে পায়নি, কোনো কান শুনেনি, কোনো অন্তরেও এর কল্পনা রেখাপাত করেনি!!

দরজার কড়া নাড়লেন আল্লাহর প্রিয় হাবীব মুহাম্মদ (সঃ)। ভিতর থেকে প্রশ্ন এলোঃ কে? রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তর দিলেনঃ আমি মুহাম্মদ। উত্তর এলোঃ আপনি ছাড়া আর কারো করাঘাতে জান্নাত খুলে দেয়ার অনুমতি নেই। আপনিই সেইজন যার অপেক্ষায় জান্নাতের উদ্বোধন…

এক মহাজাগতিক আলোর বিচ্ছুরণ নিয়ে ধীরে ধীরে খুলে যেতে শুরু করলো জান্নাতের সুবিশাল সিংহদ্বার…

চলবে…

৬ষ্ঠ পর্ব পড়ুন এখানে

Share this article

Leave a Reply

Your email address will not be published.